সোমবার, ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগামী ১০ বছরে কর–জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ জাতীয় টাস্কফোর্সের

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পিআরআই বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। ছবি: পিআইডি

বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থা আধুনিক ও টেকসই করতে আগামী এক দশকে কর–জিডিপি অনুপাত অন্তত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে কর কাঠামো সংস্কার সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে পরোক্ষ করনির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের অংশ বাড়ানো এবং শুল্ক ও ভ্যাট কাঠামো আধুনিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে প্রণীত প্রতিবেদন মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে সরকার গঠিত জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস কমিটি। প্রতিবেদনের শিরোনাম— “উন্নয়নের জন্য করনীতি: কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনে একটি সংস্কারমূলক কর্মসূচি”।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ অর্থ ও রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই ও গতিশীল করতে হলে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে খণ্ডিত সংস্কারের পরিবর্তে কর ব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত পুনর্গঠন অপরিহার্য।

টাস্কফোর্সের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে কর–জিডিপি অনুপাত ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের ৩০:৭০ অনুপাত পরিবর্তন করে ৫০:৫০ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদ্যমান কর ব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করনির্ভর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই কাঠামো ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করছে।

কর প্রশাসনে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ব্যবস্থা, সহজ ও স্বচ্ছ কর কাঠামো এবং প্রণোদনা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কর আহরণের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে আমদানি ও রপ্তানিযোগ্য বিকল্প পণ্যের কার্যকর সুরক্ষা সমান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় বন্দরে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ভ্যাট ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে ধীরে ধীরে একক হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশও রয়েছে।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় সীমিত। তবে আমরা এই সংস্কার প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু করতে চাই। এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি মৌলিক নীতিগত পরিবর্তন আসবে।”

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রতিবেদন রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর নীতিগত গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।

টাস্কফোর্সের প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কর আহরণের পরিসর বাড়ানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান জানান, প্রতিবেদনে রাজস্ব ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকটগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের পথনির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও কর বিশেষজ্ঞরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।