ঢাকার জলবাহিত স্রোতের আড়ালে যেন আরেক স্রোত—অদৃশ্য অর্থের, প্রভাবের, আর ক্ষমতার। সেই স্রোতেরই এক আলোচিত নাম জুনায়েদ আবু ইয়াসির—যাকে ঘিরে এখন অভিযোগের পর অভিযোগ, প্রশ্নের পর প্রশ্ন।
ঢাকা ওয়াসার বিতর্কিত সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান–এর ঘনিষ্ঠ এই প্রকৌশলী যেন ক্ষমতার ছায়াতলে গড়ে তুলেছিলেন নিজের এক অদৃশ্য রাজত্ব। অভিযোগ বলছে—সরকারি প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকার খেলায় তিনি ছিলেন এক নিঃশব্দ কারিগর, যেখানে হিসাবের খাতা কখনোই মেলেনি বাস্তবের সঙ্গে।
অঢেল সম্পদের ঝলক, অন্ধকার উৎসের গল্প। রাজধানীর খিলগাঁও থেকে মোহাম্মদপুর—বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দামী প্লট, ব্যক্তিগত গাড়ি—সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নের সাম্রাজ্য। কিন্তু এই স্বপ্নের ভেতর লুকিয়ে আছে অভিযোগের দীর্ঘ ছায়া। ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর, অথচ আয়কর ফাইলে নীরবতা—এ যেন সম্পদের সঙ্গে সত্যের লুকোচুরি।
প্রভাবের ঝড়, আতঙ্কের রাজত্ব- রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে—তাজুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক–এর ঘনিষ্ঠতার ছায়া ব্যবহার করে তিনি নাকি ওয়াসার ভেতরে গড়ে তুলেছিলেন এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট। বদলি, পদোন্নতি, নিয়োগ—সবকিছুই যেন হয়ে উঠেছিল এক নীরব বাণিজ্য। সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সেই পরিবেশ ছিল ভয়ের, চাপের, আর নিঃশব্দ আতঙ্কের।
অভিযোগের সবচেয়ে বিস্ফোরক অধ্যায়- শুধু আর্থিক অনিয়মেই নয়—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ যেন পুরো ঘটনাকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। একটি গোপন জুম বৈঠক, ক্ষমতার অদৃশ্য নির্দেশ, আর মাঠপর্যায়ে অর্থায়নের অভিযোগ—সব মিলিয়ে গল্পটি এখন আর শুধু দুর্নীতির নয়, বরং প্রভাবের গভীর রাজনীতির।
রূপ বদলের চেষ্টা, ক্ষোভের আগুন- রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও জুনায়েদ আবু ইয়াসির বহাল তবিয়তে—এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগীরা। নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে নিজেকে ‘মানিয়ে নেওয়ার’ চেষ্টা আর সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করার দম্ভোক্তি যেন আগুনে ঘি ঢালছে।
উল্লেখ্য যে, জল সরবরাহের প্রতিষ্ঠানে যখন স্বচ্ছতার বদলে জমে ওঠে অস্বচ্ছতার স্তর, তখন প্রশ্ন জাগে—এই প্রবাহ কোথায় গিয়ে থামবে? একজন প্রকৌশলীর গল্প এখন আর শুধু একজনের নয়—এ যেন পুরো ব্যবস্থার ভেতরের অদেখা বাস্তবতার এক রোমাঞ্চকর, তবুও অস্বস্তিকর আবহ বিরাজ করছে।
