রংপুরের তারাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী সুবর্ণা রায় হত্যার ঘটনায় মোরছালিন (২২) নামের এক তরুণ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, মাত্র আট হাজার টাকা চুরির জন্যই তিনি কুপিয়ে দুজনকে হত্যা করেছেন।
শুক্রবার ভোরে তারাগঞ্জের আলমপুর ইউনিয়নের শেরমস্ত বালাপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মোরছালিনকে। তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের এই শিক্ষার্থী টাইলস মিস্ত্রির সহযোগী হিসেবেও কাজ করেন। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোরছালিন হত্যার দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এদিন দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন এসব তথ্য জানান।
গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় এবং তার স্ত্রী সুর্বণা রায়। পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা সাড়া না পেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে তাদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। বাড়ির ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের ও রান্নাঘরে তার স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের লাশ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্ত শেষে ওইদিন সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্থানীয় শ্মশানে সৎকার করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায়ের। একই শ্মশানে সৎকার করা হয় সুবর্ণা রায়ের। এ ঘটনায় তাদের ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মোরছালিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি দা উদ্ধার করা হয়েছে। কুড়াল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ওই তরুণের স্বীকারোক্তির বরাতে তিনি আরও বলেন, মোরছালিনের আট হাজার টাকার মতো ঋণ ছিল। সেই ঋণ শোধের জন্য যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ি থেকে টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দুই দিন আগে তিনি ওই বাড়িতে টাইলসের কাজ করেছিলেন। ৬ ডিসেম্বর রাতে তিনি কুড়াল নিয়ে ওই বাড়িতে ঢোকেন। প্রথমে সুবর্ণাকে, পরে যোগেশ চন্দ্র রায়কে কুপিয়ে হত্যা করেন। দুই ছেলে চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় ওই বাড়িতে তারা দুজনই থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির দা দিয়ে আলমারির তালা ভেঙে টাকা খুঁজলেও মোরছালিন কিছু পাননি বলেও পুলিশকে জানান। পরে দেয়াল টপকে পালানোর সময় কুড়ালটি পুকুরে ফেলে দেন।
