রাজধানীর ইসিবি চত্বরে আবাসন প্রকল্পে হামলা। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। হামলার আগের দিন ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার একটি হোটেলে বসে হামলার পরিকল্পনাকারীরা চূড়ান্ত বৈঠক করেছিলেন বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে কী পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে হোটেলটির ভিডিও ফুটেজ খুঁজছে পুলিশ। দায়িত্বশীল একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় করা মামলায় কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানকে ঢাকার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আদালত তাঁকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ বুধবার তাঁর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। একই মামলায় কারাবন্দি অন্য পাঁচ আসামিরও আজ রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও, আবাসন প্রকল্পের অফিসসহ কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। প্রাথমিক তদন্তে জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
হোটেলের বৈঠকের ভিডিও খুঁজছে পুলিশ
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার আগের দিন ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার একটি হোটেলে বসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চূড়ান্ত বৈঠক করেন। হামলার আগে ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল এবং কারা এতে অংশ নিয়েছিলেন, তা শনাক্ত করতে হোটেলটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ। ফুটেজ হাতে পাওয়া গেলে হামলার পরিকল্পনা ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন বলেন, মিজানুরকে সোমবার মাটিকাটা এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে রাতে তাদের কাছে হস্তান্তর করে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মিজানুরের গ্রেপ্তার নিয়ে এমপির ভিন্ন দাবি
এদিকে জামাতা মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার এবং এ-সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর। একই সঙ্গে মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে তাঁর কিংবা জামায়াতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে আব্দুল গফুর বলেন, মিজানুরকে তাঁর নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেপ্তারের যে তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। ঢাকার মাটিকাটায় তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বাসা নেই।
হামলার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। চূড়ান্ত বৈঠকের ভিডিও ফুটেজ, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
