ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজির দুঃস্বপ্ন চিরতরে বন্ধ হবে, ব্যবসায়ীরা ফিরে পাবেন রাতের ঘুম—এমন আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ আর ফুটপাতে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলবে না, শিক্ষার্থী কিংবা নগরবাসীকে চাঁদা দেওয়ার লজ্জাজনক বাস্তবতাও আর চলবে না।
শনিবার সকাল ১০টায় হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সরকারের শাসনামলে সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ—আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলন করা মানুষ থেকে শুরু করে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটিরও এতে অধিকার রয়েছে। অথচ একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করে দেশকে শূন্য করে দিয়েছে।
নারী সম্মান ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, একটি চক্র আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করতে দেয় না। কীভাবে তারা হিজাব খুলে দেওয়ার কথা বলে? তারা কি কোনো মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়নি? আগে নিজের মা-বোনদের সম্মান করতে শিখুক। প্রয়োজনে আমরা জীবন দেবো, কিন্তু মায়ের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেবো না। দেশের কোথাও যদি দুষ্কৃতকারীরা মাথাচাড়া দেয়, জনগণই তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।
দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জামায়াতের জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলে প্রতি বছর নিজেদের ও পরিবারের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সম্পদে হাত দিয়েছেন কি না, তা জানার অধিকার জনগণের আছে। এমপি-মন্ত্রীদের স্বল্পমূল্যের প্লট কিংবা শুল্কমুক্ত গাড়ির মতো সুবিধা আমরা গ্রহণ করব না। সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে, আমরাও সেভাবেই চলব।
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে বেকারদের হাতে ভাতার কার্ড তুলে দিয়ে অপমান করা হবে না। বরং কর্মক্ষম যুবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে মর্যাদার কাজ। গ্রামে গ্রামে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে, গ্রামকেই শিল্প অঞ্চলে রূপান্তর করা হবে, যাতে মানুষ নিজের এলাকাতেই মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন গড়তে পারে।
নির্বাচনী রাজনীতিতে ভণ্ডামির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে কেউ পীর, দরবেশ বা মুফতি সেজে ভোট চাইলে বুঝতে হবে তারা প্রতারক। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে হেয় করা হবে না, কাউকে বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হতে হবে না। দেশকে বিভক্ত করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু কাগজের সার্টিফিকেট দেওয়ার কারখানা নয়, বরং দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষ তৈরির কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ-১ আসনের মনোনীত এমপি প্রার্থী মুফতি সিরাজুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রার্থী ড. আহমেদ আব্দুল কাদের।
