মৃত মায়ের কবরের পাশে নির্যাতিত সামিয়া
কুমিল্লার লালমাইয়ে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। মায়ের কবরের পাশে বসে ১২ বছরের সামিয়া আক্তারের বুকফাটা কান্না—“আম্মু, আম্মু গো, আপনি কনও আছেন, আমারে লইয়ে যান”—এই আর্তনাদ যেন ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে মানবিকতা।
মা হারানোর পাঁচ বছর পরও থামেনি শিশুটির কষ্ট। প্রবাসী বাবার অনুপস্থিতিতে সৎমায়ের ঘরে দিন কাটছিল নির্যাতন আর আতঙ্কে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সামিয়াকে প্রায়ই মারধর করা হতো, এমনকি টানা দুই দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে—যা শুনে শিউরে উঠেছে সবাই।
শেষ পর্যন্ত মায়ের কবরই হয়ে ওঠে তার একমাত্র আশ্রয়। সেখানে বসেই সে মাকে ডেকে কাঁদতে থাকে, যেন মৃত্যুই তার মুক্তি। সেই মর্মান্তিক দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে—আর তাতেই নড়ে বসে প্রশাসন।
ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু প্রশাসনের তৎপরতায় বাগমারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দিয়ে ডেকে নেওয়া হয় সৎমাকে। শিশুর প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগে সৎমা আয়েশা আক্তার দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন। তাকে এক মাসের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে—পুনরায় অভিযোগ উঠলে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।
এক মায়ের কবরের পাশে সন্তানের এই আহাজারি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং আমাদের সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করে—শিশুরা কি সত্যিই নিরাপদ?
