স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখায় কর্মরত উপসচিব আলাউদ্দিন আলীকে ঘিরে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ—যেন প্রশাসনের অন্দরমহলে নিঃশব্দে লেখা হচ্ছে এক রহস্যময় ক্ষমতার গল্প।
একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে প্রভাব ও ঘনিষ্ঠতার অদৃশ্য জাল বুনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ কমিটিতে প্রতিনিধি হিসেবে নিজ অবস্থান পাকাপোক্ত করেন তিনি। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও বিস্তার করেন তার প্রভাবের পরিধি। সে সময় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের আস্থাভাজন হিসেবে প্রশাসনিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন আলাউদ্দিন আলী। পাশাপাশি তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের আত্মীয়তার সম্পর্কও তার প্রভাব বিস্তারে সহায়ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের অন্দরেই কেউ কেউ বলছেন—তার হাতে যেন ছিল এক অদৃশ্য ‘আলাদীনের চেরাগ’ যার আলোয় একের পর এক পদ যেন নিজে থেকেই ধরা দিত!

একাধিক সূত্রের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশে তিনি ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ কার্যক্রমে তিনবার প্রতিনিধির দায়িত্ব পান। আর এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরেই অভিযোগ—সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে।
সম্প্রতি আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রায় ৩ কোটি টাকার বিনিময়ে ফায়ার সার্ভিসে পরিচালক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন আলাউদ্দিন আলী। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা স্মারকের আওতায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ১১৪ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের পরিকল্পনা ছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আলাউদ্দিন আলীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা শুধু প্রশ্নবিদ্ধই হবে না—বরং জন্ম নেবে আরও অনেক ‘আলাদীনের চেরাগ’ যা স্বচ্ছতার ভিতকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেবে।
এই ঘটনার আরও গভীরে থাকা তথ্য ও অনিয়মের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে দ্বিতীয় পর্বের সমতল মাতৃভূমি’র অনুসন্ধান প্রতিবেদনে।
