শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলোকচিত্র চরাঞ্চলের গল্প ক্যামেরায় ধরে বিশ্বমঞ্চে কাবিউর

চিলমারী উপজেলা প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবিটির শিরোনাম ‘রঙধনুর ওপর’। চরাঞ্চলের শিশুদের এই খেলার দৃশ্যটি পেয়েছে লন্ডনের ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ারে রানারআপের স্বীকৃতি সংগৃহীত

নদীতীরে সারি সারি নৌকা আর চরাঞ্চলের শিশুদের খেলা– ক্যামেরার লেন্সে দৃশ্যটি ধারণ করেছিল কুড়িগ্রামের চিলমারীর কলেজছাত্র কাবিউর রহমান। এবার এটি তার জন্য নিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। লন্ডনের ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ারে ১৫-১৮ বছর বয়সী শাখায় সে রানারআপ হয়েছে। এমন বড় অর্জনে তার এলাকাবাসীও গর্বিত।

বিশ্বের ১৬০ দেশের আলোকচিত্রীদের পাঠানো ২০ হাজারের বেশি ছবির মধ্য থেকে তার তোলা ছবি নির্বাচিত হয়। গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিযোগিতার ২৩তম আসরের ফল ঘোষণার দিনে তার নাম উঠে আসে রানারআপ তালিকায়। একই বয়সভিত্তিক শাখায় বিজয়ী হয় রোমানিয়ার ১৫ বছর বয়সী আলোকচিত্রী মাতেই মারাচিনেয়ানু।

কাবিউর রহমান চিলমারী উপজেলার সবুজ পাড়ার বাসিন্দা। সে থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমানের ছেলে এবং কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র। কাছের মানুষদের কাছে সে রিয়াদ নামেই পরিচিত।
স্থানীয় এনজিও প্রতিষ্ঠান ‘মহিদেব’-এর অর্থ ও প্রশাসন সমন্বয়কারী কুসুম আক্তার রুনা ছেলের শুরুর দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘অফিসের কাজে আমি যখন ক্যামেরা আনতাম, রিয়াদ সেটি হাতে নিয়ে নদী আর চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়াত। চোখে যা পড়ত, সেটাই ক্যামেরায় ধরার চেষ্টা করত। একসময় বুঝলাম, ছবি তোলা তার কেবল শখ নয়, এক ধরনের টান। তখন আর দেরি করিনি, নিজেই একটি ক্যামেরা কিনে দিয়েছি।’

কাবিউরের ছবিতে বারবার ফিরে আসে চরাঞ্চলের নীরব সকাল, নদীর ধারা, নৌকা আর শ্রমজীবী মানুষদের জীবন। খেলাধুলা করা শিশুদের হাসি ও দুরন্তপনাও তার ছবির অংশ। প্রতিটি ফ্রেমে ধরা পড়েছে চরাঞ্চলের সরল কিন্তু প্রাণবন্ত জীবন।
গত বছরের মার্চে ইনস্টাগ্রামে ‘ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ প্রতিযোগিতার ছবি আহ্বানের বিজ্ঞাপন তার নজরে পড়ে। বয়সভিত্তিক আলাদা শাখা থাকায় এবং এন্ট্রি ফি না থাকায় কাবিউর সাহস পায় অংশগ্রহণের। দেরি না করে নিজের তোলা কয়েকটি ছবি পাঠায় সে। নভেম্বরে চূড়ান্ত তালিকায় তার ছবি জায়গা করে নেয়। ভোট গ্রহণ শেষে জানুয়ারি ২৫ তারিখে রানারআপের নাম ঘোষণা করা হয়।
গত বছর রাধাবল্লভ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখায় পড়ছে কাবিউর। মায়ের সঙ্গে কুড়িগ্রামে বসবাস করছে সে।
চিলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাবু বলেন, কাবিউরের এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি গ্রাম ও চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও যে মেধা ও সৃজনশীলতা বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে, কাবিউর তার প্রমাণ। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল চর্চায় পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা থাকলে অনেক তরুণ এমন সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

নিজের অর্জন নিয়ে খুশি কাবিউর বলে, ‘আমি ভালো আলোকচিত্রী হতে চাই। আমাদের এলাকার জীবন ও প্রকৃতিকে মানুষ যেভাবে দেখে না, আমি সেভাবেই তুলে ধরতে চাই। এ স্বীকৃতি আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।