পবিত্র আল–আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে ঈদের নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী। ছবি: আল–জাজিরার ভিডিও থেকে নেওয়া
মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদের আনন্দ ছাপিয়ে নেমে এসেছে উত্তেজনা ও আতঙ্ক। পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে আসা শত শত মুসল্লির ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী—ছোঁড়া হয়েছে টিয়ারশেল, সৃষ্টি হয়েছে ভীতিকর পরিস্থিতি।
শুক্রবার সকালে জেরুজালেম-এর ওল্ড সিটির প্রবেশপথেই থামিয়ে দেওয়া হয় মুসল্লিদের। আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢুকতে বাধা দিলে তারা বাধ্য হয়ে সড়কেই ঈদের নামাজ আদায় করেন। কেউ কেউ মসজিদের যতটা সম্ভব কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন—চোখে ছিল বেদনা, কণ্ঠে প্রতিবাদ।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজেন বুলবুল বলেন, শৈশব থেকে আল-আকসায় ঈদের নামাজ পড়ছি। আজকের দিনটি আমাদের জন্য সবচেয়ে বেদনাদায়ক। এটি শুধু একটি নিষেধাজ্ঞা নয়, এটি একটি দৃষ্টান্ত—যা ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আগেই আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বজুড়ে।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আরব লীগ, ওআইসি এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন। যৌথ বিবৃতিতে তারা এই পদক্ষেপকে “আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন, ও মুসলিম বিশ্বের অনুভূতির ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে—এ ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, এবং এর সম্পূর্ণ দায় বহন করতে হবে ইসরায়েলকেই।
ঈদের দিনে ইবাদতের স্থানে এমন দমন-পীড়ন বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
