আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও নির্বাচনী পরিবেশ ততই সহিংস হয়ে উঠছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, গত ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা, আহত ও নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আসকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ১৮টি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ২৬৮ জন আহত এবং ৪ জন নিহত হন। তবে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে। ওই মাসে সহিংসতার ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫টিতে, এতে ৬১৬ জন আহত এবং ১১ জন নিহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এবং ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সংঘর্ষের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। শুধু ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই সংঘর্ষের ৪৯টি ঘটনা ঘটে, যাতে ৪১৪ জন আহত এবং ৪ জন নিহত হন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক সহিংসতার প্রবণতা ততই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এদিকে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ১১ জন সাংবাদিক হামলা বা বাধার সম্মুখীন হন। জানুয়ারিতে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ জনে।
দেশের ক্রমবর্ধমান এই সহিংস পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসক সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক পক্ষকে সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
