রবিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ আইনে রূপ নিচ্ছে,যুক্ত হচ্ছে শাস্তির বিধান

স্টাফ রিপোর্টার
এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১২:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’কে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। অধ্যাদেশটি সংশোধনের মাধ্যমে এতে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে অবস্থান নিলেও, সরকার গঠনের পর তারা ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছে। ফলে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়ে এটি আইনে পরিণত হলে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে, গত ১৩ মার্চ, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। সেদিনই ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে—অর্থাৎ ১২ এপ্রিলের পর—অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে।

বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করেছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে উত্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত উত্থাপন না করার এবং ৪টি রহিত করার সুপারিশও রয়েছে।
সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত ১৫টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্যতম হলো ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনের আওতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়।

গত বছরের ৯ মে রাতে এনসিপি নেতারা তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল এতে যোগ দেয়।

এরপর ১১ মে রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করা হয়। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সরকার নির্বাহী আদেশে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই দিনে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

যদিও আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা মিছিল-সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, প্রচার-প্রচারণা কিংবা গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। দলটির কার্যালয় বন্ধ, ব্যাংক হিসাব জব্দসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।
আইনে বলা আছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম চালালে চার থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে পূর্বের অধ্যাদেশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী শাস্তি হবে, তা স্পষ্ট ছিল না। এ কারণেই নতুন করে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে সংসদের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি পাসের সুপারিশ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য আইনের ১৬ ধারায় যে শাস্তির বিধান রয়েছে, সেটিই কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান বলেছেন, যা করার জনগণই করবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আওয়ামী লীগের রয়েছে।

অধ্যাদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ—দুটিই নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।