সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সৌদি আরবের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেইসঙ্গে দেশটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর রয়টার্সের।
এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি আরব বলেছিল, তারা আশা করছে ইয়েমেনের প্রধান দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী তাদের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে পরিস্থিতি শান্ত করবে।
এ উত্তেজনার ফলে গোষ্ঠীটি দক্ষিণ ইয়েমেনের বিস্তৃত অঞ্চলে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি) দখলকৃত দুটি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ থেকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। চলতি মাসে তেলসমৃদ্ধ হাজরামাউত ও আল মাহরা গভর্নরেট দখলের পর এই আহ্বান জানানো হয়। এর ফলে হুতি বিদ্রোহীদের বিরোধী শাসক জোটের ভেতরে বিভাজন আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসটিসির সামরিক তৎপরতাকে ‘অযৌক্তিক উত্তেজনা’ হিসেবে আখ্যা দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইয়েমেনের সব পক্ষ ও রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সহযোগিতা, সংযম এবং এমন কোনো পদক্ষেপ এড়ানো জরুরি, যা দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো এসটিসি বাহিনীকে ওই দুই গভর্নরেটের বাইরে তাদের পূর্ববর্তী অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া এবং সেসব এলাকার সামরিক ক্যাম্প জাতীয় শিল্ড বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা। রিয়াদ আশা প্রকাশ করেছে, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে পিছু হটবে, যাতে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।
চলতি ডিসেম্বরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত এসটিসি খুব কম প্রতিরোধের মুখে হাজরামাউত ও আল-মাহরায় গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা, সরকারি ভবন এবং সীমান্ত ক্রসিং দখল করে নেয়। একই সঙ্গে তারা ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী আদেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদও নিয়ন্ত্রণে নেয়।
