ছবি সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে—এমনই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র ও একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে—ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi মন্তব্য করেছেন, “আমরা হয়তো কয়েকজন কমান্ডারকে হারিয়েছি, কিন্তু এটি খুব বড় সমস্যা নয়।
তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তেহরান কি বড় কোনো ক্ষতি আড়াল করছে, নাকি শক্ত বার্তা দিতে চাইছে?
রয়টার্স জানায়, মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News-এর এক প্রতিবেদকের বরাতেও একই তথ্য উঠে এসেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় তেহরানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভেতরে কৌশলগত ধাক্কা দেওয়া।
স্কুলে ভয়াবহ হামলা: নিহত অর্ধশতাধিক- শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়—বেসামরিক স্থাপনাও রক্ষা পায়নি বলে দাবি করছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দক্ষিণাঞ্চলের Hormozgan Province-এর মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর নিহতের সংখ্যা প্রথমে ৪০ ছাড়ায়, পরে তা ৫০–এর বেশি বলে নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাস্থলের রক্তাক্ত দৃশ্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হলে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।
একই দিনে রাজধানী Tehran-এর পূর্বাঞ্চলেও আরেকটি স্কুলে হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম Mehr News Agency জানিয়েছে, সেখানে অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য মৃত্যু, স্কুলে প্রাণহানি, এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে।
এখন প্রশ্ন—এই হামলার জবাবে তেহরান কী পদক্ষেপ নেবে? আর ইসরায়েল কি আরও গভীর আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে?
বিশ্ববাসীর চোখ এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে বদলে যেতে পারে পরিস্থিতির চিত্র।
