শুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানে ‘গৃহযুদ্ধ’ আশঙ্কা: সীমান্তে প্রস্তুত কুর্দি বিদ্রোহীরা কারা?

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
মার্চ ৬, ২০২৬ ৪:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির নারী ইউনিটের সদস্যরা। ইরাকি কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলের কাছের একটি ক্যাম্পে। ফাইল ছবি: মনোকল সাময়িকী

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরাকভিত্তিক ইরানি কুর্দি বাহিনী জানিয়েছে, তারা সশস্ত্র ইউনিট প্রস্তুত করছে, যেগুলো প্রয়োজন হলে ইরানে পাঠানো হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা—কুর্দি যোদ্ধারা যদি ইরানে প্রবেশ করে, তাহলে তেহরানের শাসকদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিদ্রোহ বা গৃহসংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর আসে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র দিয়ে ইরানে পাঠানোর একটি পরিকল্পনা করছে। যদিও হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কুর্দিদের মাধ্যমে ইরানে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
তবে ইতিহাস বলছে, সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমর্থন দিলেও পরে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করার অভিযোগও রয়েছে।

১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে কুর্দিদের বিদ্রোহে উৎসাহ দিয়েছিল। কিন্তু পরে ইরাকি বাহিনী কুর্দি যোদ্ধাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি—এমন অভিযোগও রয়েছে।

কুর্দি কারা?

কুর্দিরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি বড় জাতিগোষ্ঠী। ধারণা করা হয়, তাদের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। তারা মূলত ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে তারা স্বাধীন রাষ্ট্র বা স্বায়ত্তশাসনের দাবি করে আসছে। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক কুর্দিদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রবিহীন জাতিগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে গেলে পরাশক্তিগুলো কুর্দিদের একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। অনেক কুর্দি মনে করেন, ১৯১৬ সালের সাইকস-পিকো চুক্তির কারণে তাদের আলাদা রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হয়নি। ওই গোপন চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ও ফ্রান্স মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নিজেদের স্বার্থে ভাগ করে নেয়।

এর ফলে কুর্দিরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আলাদা রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ হারায়।
সশস্ত্র আন্দোলনের পথ
দাবি পূরণ না হওয়ায় কুর্দিদের একটি অংশ সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নেয়। তাদের অন্যতম বড় সংগঠন হলো কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ এই সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

ইরানে কুর্দিদের অবস্থান- ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ কুর্দি। তারা মূলত ইরাক সীমান্তঘেঁষা পশ্চিমাঞ্চলে বসবাস করে। ইরানের ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে কুর্দিরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

২০২২ সালে ২২ বছর বয়সী মাশা আমিনির মৃত্যুর পর সারা দেশে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তাতেও কুর্দিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। হিজাব পরার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তার মৃত্যু হলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলো ছিল অন্যতম সক্রিয়।
এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা কুর্দি অধ্যূষিত একটি শহরের সাময়িক নিয়ন্ত্রণ ও নেয়।

সীমান্তের ওপার থেকে সহায়তা- বর্তমানে ইরানি কুর্দিদের কিছু সশস্ত্র সংগঠন ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছে। উত্তর ইরাকের এই অঞ্চলটি ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কার্যত স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। বর্তমানে এটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত।

অতীতেও দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশের কুর্দিরা একে অপরকে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তুরস্ক, ইরাক ও ইরানের কুর্দিরা একত্র হয়ে সিরিয়ার কুর্দি বাহিনীর পক্ষে লড়াইয়ে অংশ নেয়।
তবে এবার ইরানে সম্ভাব্য কোনো বিদ্রোহ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের কুর্দিরা কতটা একত্রিত হতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত হয়, তাহলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।