বুধবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানে হামলা চারদিনে যুক্তরাষ্ট্রের কত ক্ষতি হলো, কাতারে কেন বেশি

অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ৪, ২০২৬ ১০:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করে ইএ-১৮জি গ্রাউলার যুদ্ধবিমান। গত সোমবার। ছবি: এএফপি

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর গত চারদিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থাকা এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থার। এর মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। গত শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে কাতার নিশ্চিত করেছে।

গত চারদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে আনাদোলু জানতে পেরেছে, রোববার কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। ছয়জন ক্রু সদস্য বেঁচে গেলেও বিমানগুলো রক্ষা পায়নি। এগুলো প্রতিস্থাপনে আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে।
শনিবার প্রথম দফার হামলায় ইরান বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে আঘাত হানে। এতে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়। উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টার্মিনালগুলোকে এএন/জিএসসি-৫২বি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার (স্থাপন ও মোতায়েন ব্যয়সহ)।

ইরান দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্পনগরে মোতায়েন থাকা ‘থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল’ ব্যবস্থার এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার তারা ধ্বংস করেছে। উন্মুক্ত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ছবিতে সেখানে আঘাতের ইঙ্গিত মিলেছে। এই রাডার ব্যবস্থা তৈরির খরচ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তেহরান। এগুলোর মধ্যে আছে- বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর, কুয়েতে ক্যাম্প আরিফজান, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দর (মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটি) এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি।
কুয়েতে রোববার দুপুরে তোলা ছবিতে দেখা যায়, আগের দিনের ইরানি হামলার পর আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির বিভিন্ন স্থানে ছাদের অংশ ধসে গেছে। ক্যাম্প আরিফজানেই ছয় মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। রোববার ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের ভেতর ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে ভেতরে বিস্ফোরিত হচ্ছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের যাচাই করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, শনিবার ও রোববার জুড়ে ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাকে বারবার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এলাকা থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা যায়। রোববার সকালে স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, ঘাঁটির একটি অংশে চারটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সোমবার ভোর পর্যন্ত সেখানে আগুন জ্বলছিল।
এদিকে রোববার দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর আওতাধীন একটি এলাকার বড় ভবন থেকে ধোঁয়া উঠছে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন ঘাঁটি নয়। তবে জেবেল আলি বন্দরে থাকা মার্কিন সেনারা ভবনটি ব্যবহার করেন।

সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষতি হয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমপাউন্ডের ভেতরে সিআইএ স্টেশনেরও ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। কুয়েতি কর্মকর্তারা এটিকে নৃশংস ইরানি হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কমপাউন্ডের কাছে ধোঁয়া দেখা গেছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। দূতাবাসটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণার পর অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের দপ্তরেও সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন আঘাত হানে। ভবনের পাশের একটি পার্কিং লটে ড্রোন আঘাত হানার পর আগুন লাগে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে কিছু ক্ষতি হলেও বড় ধরনের কাঠামোগত ধ্বংস হয়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।