রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফাইল ছবি: স্পুটনিক
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে রোববার ফোনালাপ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আলাপে পুতিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে তিনি প্রস্তুত।
দুই নেতার ফোনালাপের একটি বিবরণ গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে ক্রেমলিন। এতে বলা হয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিন সংঘাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে এবং স্থায়ী শান্তি অর্জনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় আরও সহায়তা করতে চান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সহায়তার জন্য তাঁর প্রস্তুতিও আছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা স্পুটনিক তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ফোনালাপে মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে হওয়া আলোচনার বিষয়ে পুতিনকে অবহিত করেন। রাশিয়ার নীতিগত অবস্থান ও মানবিক সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
ফোনালাপে দুই নেতা প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রোববার সংস্থাটির পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র আনুয়ার এল আনুনি ইসলামাবাদ সংলাপের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আরও প্রচেষ্টায় ব্রাসেলস অবদান রাখবে।
গত শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এর লক্ষ্য ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে রোববার সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা দেন ‘আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে’। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং স্কাই নিউজকে বলেছেন, ‘আলোচনায় এখনো কোনো অগ্রগতি আসেনি এবং ইরানে চলমান যুদ্ধের টেকসই সমাপ্তি ঘটেনি- এটা স্পষ্টতই হতাশাজনক।’
ওয়েস স্ট্রিটিং আরও বলেন, ‘কূটনীতিতে সফলতা না আসা পর্যন্ত ব্যর্থতাই থাকে। তাই এই আলোচনা সফল না হলেও চেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।’
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্য ও স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, ‘ইসলামাবাদের আলোচনার সময় ওয়াশিংটন তেহরানের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।’ এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, ‘আমাদের ইরানি সহকর্মীরা গঠনমূলক উদ্যোগ তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপরপক্ষ আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।
অপরদিকে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ‘সর্বোত্তম’ একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয় ইরানিরা সেটি গ্রহণ করে কি না।
সংলাপের এই ব্যর্থতা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হবে। সেই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচল এবং তেল-গ্যাস স্থাপনাগুলো আরও ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তবে উত্তেজনার এই আবহের মধ্যেই কিছু স্বস্তির খবর মিলেছে। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল পরিবহনের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ পুনরায় চালু করা হয়েছে। অপরদিকে কাতারের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচলের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে।
