পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর আকাশে যেন আগাম উৎসবের রঙ। আর সেই রঙে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘গুলশান সোসাইটি চাঁদরাত-২০২৬’—একটি আলোকোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত আর হৃদয়ছোঁয়া আয়োজন।
গুলশান-২ লেক পার্ক-এ শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী উৎসব ইতোমধ্যেই নগরবাসীর কাছে হয়ে উঠেছে ঈদের আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু। বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হলেও, বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পায় পূর্ণতা।
এদিকে এই মহোৎসবের আয়োজন করেছে গুলশান সোসাইটি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন—যেখানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত রয়েছে ব্যাংক এশিয়া।
উৎসবের রঙিন আয়োজন : চাঁদ দেখা সাপেক্ষে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে সেহরি পর্যন্ত চলা এই আয়োজন যেন এক টুকরো স্বপ্নমেলা। ৩০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের স্টলে মিলছে— প্রিমিয়াম লাইফস্টাইল পণ্য, হাতে তৈরি গয়না, নান্দনিক হোম ডেকর, দেশি-বিদেশি শিল্পকর্ম।
এযেন আধুনিক সংস্কৃতির মায়াবী ছোঁয়া : শুধু কেনাকাটা নয়, এই উৎসবের প্রাণ লুকিয়ে আছে এর সাংস্কৃতিক আবহে। প্রতিদিন মঞ্চে থাকছে— সুফি সংগীত, গজল, কাওয়ালি। আবার শিশুদের জন্য রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ—যা পরিবারসহ দর্শনার্থীদের আনন্দকে করেছে আরও বহুগুণ।
আয়োজনে যারা : পুরো আয়োজনের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ওমর সাদাত। উপস্থিত ছিলেন সোহেল আর কে হোসেন, সৈয়দ আলমাস কবির, সৈয়দ আহসান হাবিব এবং শ্রাবন্ধী দত্ত-সহ আরও অনেকে।
বৃষ্টি পেরিয়ে নতুন উচ্ছ্বাস : দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে নতুন উদ্দীপনায় আবার জমে উঠেছে উৎসব। আয়োজকদের আশা—এই আয়োজন শুধু কেনাকাটার নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া চাঁদরাতের ঐতিহ্য আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহকে নতুন করে ফিরিয়ে আনবে। আলো, সুর, মানুষের ভিড় আর আনন্দের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে গুলশানের এই চাঁদরাত এখন শুধুই একটি উৎসব নয়, এটি হয়ে উঠেছে রাজধানীর ঈদ অনুভূতির এক জীবন্ত অনুভূতি।
