শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়রা দোকানকর্মীদের ওপর উত্তেজিত হয়ে উঠেন। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরার ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেই হঠাৎ নেমে এলো শোকের কালো ছায়া। এক নিষ্পাপ পথচলা, এক অজানা স্পর্শ—আর তাতেই মুহূর্তে থেমে গেলো ছোট্ট জিসানের জীবনযাত্রা। বিদ্যুতের নির্মম ফাঁদে আটকে তার শেষ চিৎকার যেন কাঁপিয়ে দিলো পুরো আশকোনা এলাকা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে দক্ষিণখান থানাধীন আশকোনায় ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্থানীয় সৌদি জুয়েলার্স দোকানের শাটারে পাতা ছিলো অদৃশ্য মৃত্যুফাঁদ—চোর ঠেকানোর নামে বিদ্যুতের সংযোগ। সেই ফাঁদেই অজান্তে ধরা পড়ে যায় পথচারী শিশু জিসান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,ফুটপাত ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত দোকানের শাটারে হাত লাগে জিসানের। মুহূর্তেই বিদ্যুতের ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠে সে,আর্তচিৎকার করে শাটারের সঙ্গে ঝুলতে থাকে—এক বিভীষিকাময় দৃশ্য।ছুটে আসে আশেপাশের মানুষ,প্রাণপণ চেষ্টা করে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে—চিকিৎসক জানিয়ে দেন,নিভে গেছে ছোট্ট সেই প্রাণ।
ঘটনার পরপরই এলাকায় নেমে আসে উত্তেজনা। ক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয় দোকানের সামনে। অভিযোগ ওঠে, ঘটনাটি ঘটার পর পুলিশকে খবর না দিয়ে দোকান কর্মীরা দ্রুত ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এনে শাটারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করে।
পুলিশ জানায়, নিহত জিসান দক্ষিণখানের প্রেমবাগান এলাকার জুয়েল মিয়ার ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন এসআই মো. শাহীন আলম। এ ঘটনায় সৌদি জুয়েলার্সের দুই কর্মী—সাইদুর রহমান ও মিনার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণখান থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম জানান, দোকানের শাটারে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবিষয়ে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ জানিয়েছেন,এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক মুহূর্তের অসচেতনতা,এক ফোঁটা অবহেলা—আর তাতেই ঝরে গেলো একটি নিষ্পাপ জীবন। উত্তরার আকাশে আজ যেন ভেসে বেড়াচ্ছে এক মায়ের কান্না, এক পরিবারের নিঃস্বতা, আর এক শহরের দায়বোধহীনতার নীরব প্রশ্ন…।
