শুক্রবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উপকূলে আশার সবুজ স্বপ্ন: শ্যামনগরে লবণ সহনশীল ফসল চাষে ব্যতিক্রমী প্রশিক্ষণ

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ ৯:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

উপকূলের লবণাক্ত মাটি, ঘূর্ণিঝড় আর জলবায়ুর কঠিন চ্যালেঞ্জ—সবকিছুকে জয় করার লড়াইয়ে নতুন আশার আলো দেখাল সাতক্ষীরার শ্যামনগর। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে এবং কৃষকের হাতে অভিযোজনের শক্তি তুলে দিতে আয়োজন করা হলো লবণ সহনশীল ফসল ও সবজি চাষের ব্যতিক্রমধর্মী প্রশিক্ষণ।
শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামে জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন এ্যাকশন। কানাডাভিত্তিক দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ-এর আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৭–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গাবুরা ইউনিয়নের ৫০ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ।
লবণাক্ততার বিরুদ্ধে জয়ের পাঠ-
প্রশিক্ষণে অংশ নেন ২৫ জন—যাদের মধ্যে ১৮ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, ব্যবহারিক প্রদর্শনী এবং জলবায়ু উপযোগী কৃষি কৌশলের সমন্বয়ে প্রশিক্ষণটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও বাস্তবভিত্তিক।
১৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ছিল উৎসাহ, আত্মবিশ্বাস আর নতুন স্বপ্নের উচ্ছ্বাস।
অতিথিদের প্রত্যয়ের বার্তা-
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, গাবুরাতে অনেক সংস্থা প্রশিক্ষণ করালেও কৃষিতে অভিযোজন বৃদ্ধিতে তিন দিনব্যাপী এত তথ্যবহুল ও যত্নশীল প্রশিক্ষণ এই প্রথম দেখলাম। এটি এলাকার কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান। তিনিও প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা তুলে ধরে বলেন, কৃষিতে অভিযোজন কৌশল নিয়ে এত বড় পরিসরে এমন বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ আগে হয়নি। এটি কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য, মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস এবং কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর রব কুমার দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বদলে যাওয়ার প্রত্যাশা-
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শিখেছেন লবণ সহনশীল ধান ও সবজির জাত নির্বাচন, মাটি ব্যবস্থাপনা, পানির সঠিক ব্যবহার এবং দুর্যোগ-পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনের কৌশল।
উপকূলের কৃষকদের জন্য এই জ্ঞান শুধু প্রশিক্ষণ নয়—এ যেন টিকে থাকার অস্ত্র, নতুন ফসলের আশা আর জীবিকার নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি।
শ্যামনগরের উপকূলীয় জনপদে এমন উদ্যোগ প্রমাণ করছে—প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেও কৃষি টিকে থাকতে পারে, যদি থাকে সঠিক জ্ঞান, সমন্বিত উদ্যোগ এবং মানুষের দৃঢ় প্রত্যয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।