বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এনবিআর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান: সম্পদের পাহাড়, নাকি কেবল গুঞ্জন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোস্তাফিজুর রহমান ফাইল ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সদস্য কাজী মোস্তাফিজুর রহমান (দুলাল)—সরকারি চাকরির দীর্ঘ পথচলার শেষে এখন তাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত প্রশ্ন একটাই: এই বিপুল সম্পদের উৎস কোথায়?

রাজশাহীর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা এক বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা—কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বহু বছর। ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রাম বন্দর—রাজস্ব প্রশাসনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও প্রভাবশালী জায়গাগুলোতেই ছিল তাঁর পদায়ন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী অবসরে পাঠানো হয় তাঁকে। বর্তমানে পিআরএলে রয়েছেন।

কিন্তু অবসরের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে তাঁর জীবনযাত্রা ও সম্পদের বিস্তার।
রাজধানীতে ফ্ল্যাট, গাজীপুরে বহুতল বাড়ি!
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে আধুনিক একটি ফ্ল্যাট (৩/১৭ নম্বর) তাঁর মালিকানাধীন। গাজীপুরের পশ্চিম বিলাসপুরে রয়েছে চারতলা বাড়ি। সালনা ও দেশিপাড়া এলাকায় কয়েক বিঘা জমির কথাও স্থানীয়রা বলছেন।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশের মূল্যবান জমি। কয়েক বিঘা এই জমির মালিকানা নিয়ে রয়েছে ফিসফাস, রয়েছে প্রশ্ন। জয়দেবপুর, দক্ষিণ ছায়াবিথি ও ছায়াকুঞ্জ এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্লটেও তাঁর বিনিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রকাশ্য বেতন কাঠামোর সঙ্গে এই সম্পদের পরিমাণ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এ প্রশ্ন এখন সামাজিক ও বিভিন্ন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

পরিবারের ভূমিকা নিয়ে কানাঘুষা–মোস্তাফিজুর রহমানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ আছে, তাঁর এক ভাই কাজী শাহিন নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসার আড়ালে পারিবারিক সম্পদের দেখভাল করেন। আরেক ভাই কাজী মিঠু, যিনি বিদেশে অবস্থান করছেন—তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেন বা হুন্ডি সংক্রান্ত অপপ্রচারও শোনা যাচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন ও সরকারি যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রশ্ন স্বচ্ছতার, প্রশ্ন জবাবদিহিতার–দীর্ঘদিন রাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—যার কাজই ছিল রাষ্ট্রের আয় নিশ্চিত করা—তাঁকে ঘিরে যদি সম্পদের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সেটি নিছক ব্যক্তিগত ইস্যু থাকে না; সেটি হয়ে ওঠে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।

সচেতন মহলের মতে- অভিযোগ সত্য হলে তা রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক। আর মিথ্যা হলে—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই তাঁর সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত। নীরবতা কি ইঙ্গিতবাহী?
উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর এই নীরবতা আরও কৌতূহল বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।

এখানে উল্লেখ্য যে, একজন সরকারি কর্মকর্তার ঘোষিত আয়ের বাইরে যদি বিপুল সম্পদের অভিযোগ ওঠে—তাহলে কি তা তদন্তের দাবি রাখে না? সত্য যেদিকেই থাকুক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানই পারে এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে। কারণ রাষ্ট্রীয় সেবায় আস্থা টিকে থাকে জবাবদিহিতার ওপরই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ