নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু হয়েছে। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
ধর্মঘট সফল করতে সকাল থেকেই বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারী ও নেতাকর্মীরা। তাদের আন্দোলনের মুখে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এনসিটির অপারেশনাল কার্যক্রম। আন্দোলনের কারণে বন্দর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা।
প্রশাসনের কড়া অবস্থান—– অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন্দর প্রশাসন। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন এবং কারা দেননি—তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব বিভাগীয় প্রধানকে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। এ রায় অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। অফিস চলাকালে মিছিল, মহড়া বা আন্দোলনে অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালতের রায়ের পরও আন্দোলন—-
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট রায়ে জানিয়েছেন—এনসিটির অপারেশনাল দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো আইনগত বাধা নেই। তবে এই রায়ের প্রতিবাদে এবং ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষার’ দাবিতে গত তিন মাস ধরেই আন্দোলনে রয়েছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবারের ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা সকল অপারেশনাল কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
রোববারও কর্মসূচি অব্যাহত—- একই দাবিতে রোববার ১ ফেব্রুয়ারি সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত আবারও সব ধরনের অপারেশনাল ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।
এ কর্মসূচির প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে স্কপ। সংগঠনটি রোববার চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি—
আন্দোলনকারী নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের কর্মসূচি চলছে, চলবে। এটি কোনো দলীয় স্বার্থ নয়—দেশ রক্ষার স্বার্থেই আমরা এই আন্দোলনে নেমেছি।
সব মিলিয়ে এনসিটি ইস্যুতে শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা আন্দোলন ও প্রশাসনের কড়া অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
