স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এ শুরু হয়েছে উন্নয়ন ও সংস্কারের এক নতুন অধ্যায়। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে অধিদপ্তরজুড়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মগতির নতুন সঞ্চার হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।
সম্প্রতি সরকার জারি করা এক অফিস আদেশে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফার স্থলাভিষিক্ত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এলজিইডির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
এর আগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে তিনি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, মাননিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও কারিগরি অভিজ্ঞতার আলোকে তার নেতৃত্বে এলজিইডিতে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের নতুন আবহ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার পথে দৃঢ় অগ্রযাত্রা—
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আধুনিক ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার, ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করা এবং কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন—এসবই তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো, প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম ও অবহেলার বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহৃত প্রতিটি টাকা জনগণের আমানত। এই অর্থের অপচয় কিংবা অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই বিশ্বাস থেকেই এলজিইডিকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের সমন্বয়—- প্রকৌশলী মহলে মো. বেলাল হোসেন একজন নীতিবান, কর্মঠ ও দূরদর্শী কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডিতে তার কর্মজীবন শুরু। দীর্ঘ সময় উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি স্থানীয় বাস্তবতা ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক এবং ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডির প্রশাসন শাখার দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে সদরদপ্তরে যোগ দেন।
তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, রাজশাহী (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়—রুয়েট) থেকে ১৯৮৯ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
এলজিইডি জুড়ে আশাবাদ—-
অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অফিসের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততা, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক শুদ্ধতা ও পেশাদারিত্ব—সব মিলিয়ে এলজিইডি একটি নতুন মানদণ্ডের দিকে এগোবে বলে তাদের বিশ্বাস।
জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রযাত্রা সম্ভব—এই প্রত্যয়ে প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে এলজিইডি অধিদপ্তরে এখন স্বস্তি, আস্থা ও আশার আবহ বিরাজ করছে।
