বিদায়ী ২০২৫ সালের প্রথম কর্মদিবসে দর হারিয়েছিল বেশির ভাগ শেয়ার। অবশ্য শেষ কর্মদিবসে এসে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক শেয়ারের দর বেড়েছে। সূচকও বেড়েছে সামান্য, পৌনে ৪ পয়েন্ট। তবে পুরো বছরের হিসাবে সূচকের পতন হয়েছে ৩৫১ পয়েন্ট বা পৌনে ৭ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার সূচকটির সমাপনী অবস্থান ছিল ৪৮৬৫ পয়েন্টে, বছরের শুরুতে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল ৫২১৬ পয়েন্ট থেকে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্রমাগত দর পতনে সূচক গত ২৯ মে লেনদেনের মাঝে ৪৫৮৮ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল। ১৩ সপ্তাহ পর গত ৮ সেপ্টেম্বর লেনদেনের মাঝে সূচকটি ৫৬৭৪ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। এরপর ফের দর পতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতার অবসান হবে, গতি ফিরবে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগে, তাতে শেয়ারবাজারে ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য– এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। তবে তার বাস্তব প্রতিফলন বাজারে এখনও নেই। উল্টো বছরের শেষ প্রান্তিকে এসে দর পতন আরও বেড়েছে।
পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, ২০২৫ সালে তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির মধ্যে ২১৯টি দর হারিয়েছে, যা মোটের প্রায় ৬১ শতাংশ। বিপরীতে ১৩৫টির বা সাড়ে ৩৭ শতাংশের দর বেড়েছে। অপরিবর্তিত থেকেছে বাকি ছয়টির দর। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টির দর পতন হয়েছে।
প্রতি শেয়ারের দাম বিবেচনায় সর্বাধিক ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ দর পতন হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের। খাতটির তালিকাভুক্ত ২৩ কোম্পানির মধ্যে ২০টির দর পতন হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতের গড়ে প্রায় ১৩ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাতের প্রায় ৯ শতাংশ, সিমেন্ট খাতের প্রায় ৯ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ খাতের সাড়ে ১৩ শতাংশ দর পতন হয়েছে। তুলনামূলক কম সংখ্যক শেয়ার দর হারিয়েছে প্রকৌশল, বস্ত্র, কাগজ ও ছাপাখানা এবং বিবিধ খাতের।
একক কোম্পানি হিসেবে ৫০ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে ২৬ কোম্পানির শেয়ার। ৮০ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে অবসায়নের পরিকল্পনায় থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, বিআইএফসি। গত বছরের শেষের তুলনায় এ বছরের শেষে অন্তত ২০ শতাংশ দর হারিয়েছে ১২২ কোম্পানির শেয়ার।
বিরূপ অবস্থার মধ্যেও পাঁচ কোম্পানির শেয়ারদর দ্বিগুণ থেকে সাড়ে তিন গুণে উন্নীত হয়েছে। এগুলো হলো– জিকিউ বলপেন, ডমিনেজ স্টিল, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, ইয়াকিন পলিমার এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। ৫০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়েছে আরও ১৯ কোম্পানির শেয়ার ও দুই মিউচুয়াল ফান্ডের।
২০২৪ সালে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৬৩২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। বিদায়ী বছরে তা ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় নেমেছে। এ বছর মূল শেয়ারবাজার ও এসএমই প্ল্যাটফর্ম মিলে ডিএসইতে এক লাখ ২৫ হাজার ১৮২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
