রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর দুটি অ্যাকাউন্টে মোট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে ওসির দাবি, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাক করা হয়েছিল।
ইমাউল হক জানান, একটি অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করার পরই ঘটনার সূত্রপাত। লিঙ্কে প্রবেশ করলে তাকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাওয়ার বার্তা দেখানো হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে সেই অর্থ অ্যাকাউন্টে জমাও পড়ে। পরে আরও বড় পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। কয়েক দফা এভাবে লেনদেনের পর প্রতারকরা তাঁর অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং পাসওয়ার্ড ব্লক করে দেয়। এতে নিজের প্রায় দেড় লাখ টাকাও খোয়ান তিনি। ঘটনাটি বুঝতে পেরে একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান ওসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাতটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ওসির নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। এর মধ্যে ভাটারা থানার পেছনের একটি মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের দোকান থেকেই পাঠানো হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এছাড়া দুই কনস্টেবলের নম্বর থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকাসহ আরও কয়েকটি নম্বর থেকে বাকি অর্থ লেনদেন হয়।
অভিযোগ রয়েছে, লেনদেন হওয়া অর্থের একটি অংশ অনলাইন জুয়ার পেছনে ব্যয় হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি ইমাউল হক বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং পুরো ঘটনাই প্রতারণার ফাঁদের অংশ।
