সোমবার, ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কবে গেজেট, নতুন সরকারকে শপথ পড়াবেন কে

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরপর বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করা হবে। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিতদের শপথবাক্য পড়ান। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে রয়েছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে- নতুন সরকারকে শপথ কে পড়াবেন?

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।আজ শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় গতকাল। আজ শুক্রবার ২৯৭টি আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে বাকি দুটি আসনের বিষয়ে আইনগত বা কারিগরি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে কি না সে বিষয়ে জানাননি তিনি।

ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার জোট পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন।
বিএনপি একক দল হিসেবে পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপি একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি, গণঅধিকার পরিষদ একটি আসন পেয়েছে।

এ ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি। এবারের নির্বাচনে গণভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। আর ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ২৯৯টি আসনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে?

নিয়ম অনুযায়ী, অতীতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন মূলত জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে।

তাহলে নির্বাচিতদের শপথ কে পড়াবেন? উপায় কী আছে?

এক্ষেত্রে আবারও যেতে হবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।’

এই অনুচ্ছেদে মূলত দুটি উপায় বলা হয়েছে।

এক. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন।

দুই. যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারেন তাহলে তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাবেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করা পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন।আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।