গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কায়্যাকোবাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয় থেকে তাঁর অফিসের দূরত্ব মাত্র ১৫ মিটার হলেও অভিযোগ রয়েছে, ঠিক এখানকার কাছেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছেন কমিশন বাণিজ্য ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের কর্মকাণ্ড।
পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ-
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী একাধিক কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব আকারে পাঠানোর কথা থাকলেও কায়্যাকোবাদকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার) পদে উন্নীত করতে শুধুমাত্র তাঁর নামই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই ব্যাচের ইএম সার্কেল–৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহাবুবুল হক চৌধুরীর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এর নেপথ্যে রয়েছেন গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার—এমন তথ্যও জানা গেছে।
সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও কোটি টাকার লেনদেন-
ই-এম সার্কেল–২ এর দায়িত্বে থাকা কায়্যাকোবাদ সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ, বদলি ও প্রাক্কলন অনুমোদনের নামে বিপুল টাকার অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে একটি ক্ষমতাধর সিন্ডিকেট নির্বাহী প্রকৌশলীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়।
প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম অপসারিত হওয়ার পর এই সিন্ডিকেটের বিপুল অর্থ কায়কোবাদের কাছেই রয়ে যায়। এমনকি একজন জুনিয়র প্রকৌশলী তাঁর কাছে ৮০ লাখ টাকা আটকে থাকার দাবি করেছেন।
সরকারি বেতন বনাম ব্যক্তিগত সম্পদ-
সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেড-৩ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সর্বোচ্চ মাসিক মূল বেতন ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতেও সর্বোচ্চ বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। কিন্তু এই সীমিত বেতনের বিপরীতে কায়কোবাদের মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণ বিস্ময়কর।
*অভিযোগ অনুযায়ী তাঁর সম্পদের তালিকা—
*রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট
*ঢাকার ধামরাইতে নির্মাণাধীন ১০ তলা ফাউন্ডেশন ভবন
*শেরপুরে গ্রামের বাড়িতে বেনামি বিপুল জমিজমা
*পরিবারের ব্যবহারে সর্বাধুনিক গাড়ির বহর
*নিজ সার্কেলের কাজ পাসের ক্ষেত্রে ৪–৫% কমিশন গ্রহণ-
*এসব সম্পদের পরিমাণ তাঁর সারাজীবনের সরকারি আয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
দুদকের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন- অভিযোগ রয়েছে, দুদকের ছাড়পত্রের জন্য কায়কোবাদ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদটি কি সত্যিই যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে, নাকি তা অর্থের বিনিময়ে কিনে নেওয়া হচ্ছে?
এক্ষেত্রে গণপূর্ত উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির নামও সামনে এসেছে, যিনি মানবাধিকারকর্মীর পরিচয়ের আড়ালে গণপূর্তের বিভিন্ন ব্যবসায় প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
কায়্যাকোবাদকে পাওয়া যায়নি : অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য নিতে চারবার তাঁর অফিসে যাওয়া হলেও কায়কোবাদকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর সকাল ১১টায় সেগুনবাগিচাস্থ অফিসে খোঁজ নেওয়া হলে স্টাফরা জানান—তিনি বহুদিন ধরে নিয়মিত অফিস করছেন না; সপ্তাহে মাত্র দুই–তিন দিন বিকেলে এসে অল্প সময় অবস্থান করে দ্রুত চলে যায়।
গণপূর্ত সূত্রে জানা যায়, অফিসে সময় না দিয়ে পদোন্নতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। অদৃশ্য ইশারায় বহাল তবিয়তে আছে। বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী সংখ্যায়।
