কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় চাচা-ভাতিজাকে গুলি করে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
নিহতরা হলেন– বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ারা ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ছালেহ আহমেদ (৫৫) এবং আলিয়ারা গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে দেলোয়ার হোসেন নয়ন (৪৫)। ছালেহর আপন ভাতিজা নয়ন। তিনি এক মাস আগে ব্রুনাই থেকে দেশে ফেরেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে আলিয়ারা গ্রামে ছালেহ আহম্মদ গ্রুপ ও সুরোজ মিয়া গ্রুপের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরে এর আগেও দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার ঘটনার আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সুরোজ মিয়ার ছেলে। আলাউদ্দিনকে হত্যা জেরে গ্রামে এক পক্ষ অপর পক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। ওই ঘটনায় নয়নের বাবা আবুল খায়ের বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
সম্প্রতি তারা কারাগার থেকে বের হয়েছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের লোকজন। প্রতিপক্ষের লোকজন ছালেহ ও নয়নকে প্রথমে গুলি করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় অন্যান্য আহতদের কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক বছরে এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ ভুইয়া বলেন, গত ৩ আগস্ট সুরোজ মিয়া আলাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়। তিনি সুরোজ মিয়ার লোক। তাকে হত্যার ঘটনায়জড়িতদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। এরপর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর মধ্যে শুক্রবার জোড়া খুনের ঘটনা ঘটলো। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা এসেছেন। ৩ আগস্টের মতো যেকোনো মুহূর্তে বাড়িঘরে ভাঙচুর লুটপাট, আগুন লাগানো হতে পারে।
চেয়ারম্যানের দাবি, এলাকায় উভয় পক্ষের অনেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অনেক অস্ত্র রয়েছে। প্রশাসনের কাছে এগুলো উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার রাতে নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান গণমাধ্যম কে বলেন, ওই এলাকায় দুটি পক্ষের দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। নিহত দু’জনই আগে আলাউদ্দিন গ্রুপের প্রতিপক্ষের লোক। আজকের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
