জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরে ব্যাপক রদবদল হলেও কিছু কর্মকর্তা এখনও আগের পদেই বহাল রয়েছেন। তাদের মধ্যেই ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়সার কবির–এর বিরুদ্ধে পুনরায় টেন্ডার বাণিজ্যে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, *২০২৪-২৫* অর্থবছরে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে কায়সার কবির এপিপি বরাদ্দের বিভিন্ন কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করেন। এতে কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজগুলোর আইডি নম্বরও পাওয়া গেছে, যার সংখ্যা কয়েক ডজন। এসব কাজের মাধ্যমে কায়সার কবির কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র।
*দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী পোস্টিং ও রাজনৈতিক যোগসূত্র*
চাকরিজীবনের শুরু থেকেই কায়সার কবির প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের অধীনে পোস্টিং পান। তিনি সাভার সার্কেলে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী **আব্দুল কাদের চৌধুরীর** অধীনে কর্মরত ছিলেন, যিনি নিজেকে আওয়ামী সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিতেন। কাদের চৌধুরী ক্যাসিনো কাণ্ডে জিকে শামীমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পদাবনতি হয়ে অবসরে যেতে বাধ্য হন।এরপর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে জামালপুরে বদলি হয়ে কায়সার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজম এমপি’র–সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, মির্জা আজমের ভাইয়ের সঙ্গে মিলেই তিনি ঠিকাদার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন।
*অর্থের বিনিময়ে কাঙ্ক্ষিত পোস্টিং*
নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর কায়সার কবির *সাজিন কন্সট্রাকশন লিমিটেডের মালিকের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন* করে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারকে উৎকোচ দিয়ে ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে পোস্টিং নেন—এমন অভিযোগও উঠেছে এ অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এরপরই তিনি ব্যাপক টেন্ডার বাণিজ্য শুরু করেন বলে জানা যায়।
*বদলি বাণিজ্য ও দলীয় কার্যক্রমে অর্থায়নের অভিযোগ*
আরেক অভিযোগে বলা হয়েছে, কায়সার কবির **র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুসাকে সাথে নিয়ে বদলি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ** করতেন। এছাড়া অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল আলমের নির্দেশে তিনি **শেখ কামালের জন্মদিনসহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে নগদ অর্থ প্রদান** করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
*জুলাই ছাত্র-জনতা বিপ্লবে সহিংসতায় অর্থায়নের অভিযোগ*
জুলাই ছাত্র-জনতা বিপ্লবের সময় কায়সার কবির হত্যা-সহিংসতায় প্রত্যক্ষ অর্থায়ন করেছেন— এমন গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে।
*যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ:
এ বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ কায়সার কবিরের সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করবে কিনা, তা এখনো জানা যায়নি।
