রাজধানীর উত্তরা থেকে উঠে আসা এক বিভীষিকাময় নির্যাতনের ঘটনায় নাটকীয় মোড়—শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়াসহ নানাভাবে নির্যাতনের কথা আদালতে স্বীকার করেছেন বীথি আক্তার, যিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান–এর স্ত্রী।
শনিবার ঢাকার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। জবানবন্দি গ্রহণ করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রফিক আহমেদ জানান, সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বীথি নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পুলিশ জানায়, মেডিকেল পরীক্ষা শেষে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা প্রয়োজন ছিল এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখা জরুরি। বিভীষিকাময় নির্যাতনের চিত্র
নির্যাতনের শিকার ১১ বছরের শিশুটি উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত। অভিযোগ অনুযায়ী, তুচ্ছ কারণে তার ওপর চালানো হতো অমানবিক নির্যাতন—গরম খুন্তির ছ্যাঁকা থেকে শুরু করে শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন।
ঘটনার পর ১ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা উত্তরা পশ্চিম থানা–য় মামলা করেন। সেদিন রাতেই পুলিশ সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়।
এই স্বীকারোক্তি শুধু একটি মামলার অগ্রগতি নয়; বরং শিশু গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে বড় এক বার্তা। এখন সবার নজর—তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া কত দ্রুত এবং কতটা দৃষ্টান্তমূলক হয় তার দিকে।
