শেরপুরের নকলায় ব্যবসায়ীর গুদামের সামনে সরকারি সার বোঝাই ট্রাক। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি বাফার গুদামে যাওয়ার কথা—কিন্তু রহস্যজনকভাবে পথ বদলে ব্যবসায়ীর গুদামে খালাস হচ্ছিল ট্রাকভর্তি সার। স্থানীয়দের সন্দেহ আর তৎপরতায় অবশেষে ফাঁস হলো ঘটনাটি। শেরপুর জেলার নকলা পৌরশহরে রোববার দুপুরে নাটকীয়ভাবে জব্দ করা হয় সরকারি ৪৯ টন ইউরিয়া সার।
ঘটনাস্থল ছিল নকলা কৃষি ব্যাংকের সামনে সৃজন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি গুদাম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি ট্রাক থেকে সার নামানোর সময় বিএডিসি ও বিসিআইসির স্টিকার দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। কাগজপত্র চাইলে চালক ও সংশ্লিষ্টরা বৈধ কোনো নথি দেখাতে না পারায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক তল্লাশি করে নিশ্চিত হয়—আশুগঞ্জ থেকে আনা ৪৯ টন ইউরিয়া সার সরাসরি এখানে খালাস করা হচ্ছিল, যদিও সেগুলো যাওয়ার কথা ছিল ঝিনাইগাতী উপজেলার সরকারি বাফার গুদামে।
ডিও দেখিয়ে ব্যাখ্যার চেষ্টা, সন্তুষ্ট নয় প্রশাসন
ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালকের দাবি, সৃজন এন্টারপ্রাইজের মালিক কৃষ্ণ কান্তি রায়ের নামে ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষই নাকি সরাসরি ব্যবসায়ীর গুদামে সার নামাতে বলেছেন। তবে জবাব অস্পষ্ট হওয়ায় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাক দুটি আটক করে এবং সার জব্দ করে।
ডিলার কৃষ্ণ কান্তি রায় বলেন, বাফার গুদামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তাকে ফোনে সার নামিয়ে নিতে বলেন এবং ডিও পাঠানোর আশ্বাস দেন। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হলেও স্থানীয়দের বাধায় পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চেয়ে নোটিশ
নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ খান স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়েছে, বাফার গুদামে যাওয়ার কথা থাকা ৪৯ টন ইউরিয়া কীভাবে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ব্যবসায়ীর গুদামে এলো—তার ব্যাখ্যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে।
‘যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট’—স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আগে বাফার গুদামে সার ওঠার পর সেখান থেকে ডিলারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। সরাসরি ডিলারের গুদামে সার নামানো অস্বচ্ছ এবং এতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়—যার ভুক্তভোগী হন কৃষকরা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন জানান, জব্দ করা সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সার আশুগঞ্জ থেকে ঝিনাইগাতী বাফার গুদামে যাওয়ার কথা থাকলেও কীভাবে নকলায় এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাগজপত্র যাচাই করতে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি সার নিয়ে এই ‘রহস্যময় পথবদল’ শুধু অনিয়মের প্রশ্নই তুলেনি—বরং কৃষকদের প্রাপ্য সারের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি করেছে নতুন উদ্বেগ।
