পানির ট্যাংক ও ড্রামে ডিজেল মজুত করে রাখা ছবি:সংগৃহীত
রাতের আঁধারে তেলের কালোবাজারি—বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় অভিযান, ধরা পড়ল গোপন মজুদের চক্র।
চট্টগ্রামের ব্যস্ত নগরীর বুকেই নীরবে গড়ে উঠেছিল এক অদৃশ্য জ্বালানি সাম্রাজ্য—যেখানে পানির ট্যাংক আর ড্রামের ভেতর লুকিয়ে রাখা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ ডিজেল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। যৌথ অভিযানে উন্মোচিত হলো সেই গোপন মজুদের অন্ধকার গল্প।
শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সামরিক
গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর সমন্বিত অভিযানে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সংলগ্ন বাটারফ্লাই পার্কের বিপরীতে মাদ্রাসা গেট এলাকায় জব্দ করা হয় প্রায় ছয় হাজার লিটার ডিজেল। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
পতেঙ্গা থানার ওসি মোস্তফা আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩০টি ড্রাম ভর্তি ডিজেল ও তেল ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত তিনটি পাম্প উদ্ধার করা হয়। পুরো ঘটনাটি যেন এক নিখুঁত পরিকল্পিত মজুদ কারবারের চিত্র তুলে ধরে।
জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৌশলে জ্বালানি তেল সরিয়ে ফেলে এবং পরে তা বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে গোপনে মজুত করে রাখে। এই চক্রের জাল ছড়িয়ে ছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও।
অভিযানে জড়িত এক ব্যবসায়ীর গোপন মজুদের রহস্য ভেঙে পড়েছে মুহূর্তেই। ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যদিও তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু তেলই নয়, উন্মোচিত হয়েছে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের নীরব বিস্তার।
পানির ট্যাংকে লুকানো ডিজেলের এই গল্প শুধু অবৈধ মজুদের নয়—এ যেন লোভ, কৌশল আর অন্ধকার বাণিজ্যের এক গোপন প্রেমকাহিনি, যেখানে লাভের মোহে হারিয়ে যায় নৈতিকতার শেষ আলো
