ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
কোটি টাকার চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামে এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাসা লক্ষ্য করে মুখোশধারীদের প্রকাশ্য গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসার সামনে এ হামলা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরাই এ ঘটনায় জড়িত।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে চার মুখোশধারী বাসার সামনে আসে। গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে তারা পায়ে হেঁটে বাসার কাছে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একজনের হাতে দুটি পিস্তল, অন্যদের হাতে চায়নিজ রাইফেল, মেশিনগান ও শটগান ছিল। কয়েক মিনিটে ৬–৭ রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
এটি একই বাসায় দেড় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফা হামলা। এর আগে গত ২ জানুয়ারি চাঁদা দাবির জেরে বাসাটিতে গুলি চালানো হয়। তখন জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। এরপর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। পাহারার মধ্যেই ফের গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর নির্দেশেই হামলাটি হয়েছে। এর আগের কয়েকটি চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে মো. রায়হান ও বোরহানের নামও সামনে এসেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রথমে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় তার কাছে। টাকা না দেওয়ায় বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সর্বশেষ ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বার্তা পাঠানো হয়। শনিবার ভোরে সেহেরির পরপরই মুখোশধারীরা বাসার পেছনে অবস্থান নেয় এবং গুলি ছুড়তে শুরু করে।
উল্লেখ্য, স্মার্ট গ্রুপ দেশের একটি বড় শিল্পগোষ্ঠী। মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঘটনাটি ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
