শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছিনতাই আতঙ্কে ময়মনসিংহ–সিলেট: নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারালেন শিক্ষার্থী, তবু অভিযোগে অনীহা ভুক্তভোগীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহ ও সিলেট নগরীতে চুরি-ছিনতাইয়ের লাগামহীন বিস্তারে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। নির্জন চর থেকে ব্যস্ত সড়ক— কোথাও নিরাপদ নন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে।
ধাওয়া থেকে নদীতে ঝাঁপ, মিলল মরদেহ- ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন আনন্দ মোহন কলেজ–এর শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। দুদিন পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তারা বিক্ষোভ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন।

এর আগে ২৩ অক্টোবর দিঘারকান্দা–রহমতপুর বাইপাসে বাক্‌প্রতিবন্ধী অটোরিকশাচালক মাছুমকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও আলোড়ন তোলে।

পরিসংখ্যান বলছে ভয়াবহ চিত্র- পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ জেলায় ১১১টি খুনের ঘটনায় অন্তত ২০টি ছিল ছিনতাই-সংশ্লিষ্ট। একই বছরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ৬০টি; গ্রেপ্তার ৪৬৭ জন। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, নগরীতে প্রতি মাসেই গড়ে এক হাজারের বেশি ছিনতাই ঘটে— যার বড় অংশই থানায় অভিযোগ আকারে পৌঁছায় না।
নগরীর মীরবাড়ির শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সজীব জানান, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি চারবার ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। টাঙ্গাইল পলিটেকনিকের ছাত্র রুবেল আহমেদ স্বাধীনও চলন্ত অটোরিকশায় যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীদের হাতে মোবাইল ও মানিব্যাগ হারিয়েছেন। ধোবাউড়ার জয়নাল আবেদীন পার্ক–এ ঘুরতে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন আরেক ভুক্তভোগী।

এদিকে হটস্পট হয়ে উঠছে নগরীর একাধিক এলাকা
শম্ভুগঞ্জ, ব্রিজ মোড়, কেওটখালী, বাকৃবি শেষ মোড়, সানকিপাড়া, মীরবাড়ি, কলেজ রোড, স্টেশন রোড, গাঙ্গিনারপাড়, মাসকান্দাসহ অন্তত ১৫টির বেশি এলাকা ছিনতাইয়ের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত। অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখন ভিড়ের মধ্যেও অটোরিকশায় ছিনতাই হচ্ছে— যাত্রীরা ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য বলছে, আটক ৪৬৭ আসামির মধ্যে ৩৬২ জনই চারটি এলাকার বাসিন্দা। অনেক পেশাদার ছিনতাইকারী জামিনে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়াচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছিনতাইকারী জানান, নেশার টাকার জোগান দিতেই তিনি ছিনতাইয়ে জড়ান।

সিলেটেও একই চিত্র- ময়মনসিংহের মতো সিলেট নগরীতেও চুরি-ছিনতাই বাড়ছে। হাউজিং এস্টেট এলাকায় কর কর্মকর্তার ব্যাগ ছিনতাইয়ের ৩৭ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী ইয়াছমিন আক্তার জানান, ব্যাগে ১৫–২০ হাজার টাকা থাকলেও তিনি মামলা করেননি।
এ ছাড়া সুবিদবাজারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরি ও কিনব্রিজ পার হয়ে ব্যবসায়ী মামুন রশিদের ছিনতাইয়ের ঘটনাও আতঙ্ক বাড়িয়েছে।

কেন থামছে না ছিনতাই? আইনজীবীরা বলছেন, দণ্ডবিধির ৩৭৯, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৯২ ধারায় মামলা হলেও দীর্ঘসূত্রতা ও বিচার বিলম্ব অপরাধ দমনে বড় বাধা। সচেতন নাগরিকদের মতে, পুলিশের টহল প্রধান সড়কে সীমাবদ্ধ থাকায় অলিগলি ও অন্ধকার মোড়গুলো অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। গ্রেপ্তার ছিনতাইকারীদের বড় অংশ মাদকাসক্ত হওয়াও উদ্বেগজনক।

সমাধানে নাগরিক প্রস্তাব- ভুক্তভোগীরা ছিনতাই রোধে কয়েকটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপের কথা বলেছেন— হটস্পটে সিভিল পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, মোবাইল ফোনের আইএমইআই ট্র্যাকিং জোরদার, প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যকর বিট পুলিশিং, সিসিটিভি ক্যামেরা ও লাইভ মনিটরিং,
ছিনতাই পণ্য ক্রেতা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও জামিন কঠোর করা,
সামগ্রিকভাবে, অপরাধ দমনে সমন্বিত আইন প্রয়োগ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা কঠিন— এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।