বৃহস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছেলের মুক্তি মেলেনি প্যারোলে, বাবার শেষ যাত্রা থামল কারাগারের ফটকে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ ১০:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কারাগারে নেওয়া হয় লাশ। ছবি: সংগৃহীত

কারাগারের লোহার ফটকের সামনে থেমে গেল এক বাবার শেষ যাত্রা। মুক্তি পেল না ছেলে—দেখা হলো কেবল নিথর দেহের সঙ্গে। রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী মিলন মিয়া (৪০)। বাইরে তখন তার বাবার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস। ক্যান্সারে ভুগে মঙ্গলবার সকালে মারা যান ফুল মিয়া (৬৮)। ছেলের জন্য বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল—একবার কাছে পাওয়া। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাগজের ভাঁজে সেই আকুতি হারিয়ে গেল।

আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল। আশা ছিল—বাবার জানাজায় অন্তত ছেলেটা থাকবে। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। অনুমতি মিলেছে কেবল একটুকু—বাবার লাশ কারাগারে এনে শেষবারের মতো ছেলেকে দেখানোর।
বুধবার সকাল ১০টা। কিশোরগঞ্জ কারাগারের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ফ্রিজিং ভ্যান। ভেতরে শুয়ে ফুল মিয়ার নিথর দেহ। পাশে দাঁড়িয়ে চাচা হাজী মতিউর রহমান, ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমসহ স্বজনরা। কারাগারের ভেতরে তখন মিলন—হাতকড়ার শেকলে বন্দী, চোখে বাবাকে হারানোর শূন্যতা।

ভৈরবের শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লার চর গ্রামের ফুল মিয়ার বড় সন্তান মিলন মিয়া একজন ইট-বালুর ব্যবসায়ী। তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না, কেবল সমর্থক ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। কোনো মামলায় নাম না থাকলেও ২০২৪ সালে তাকে আটক করে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জামিন মঞ্জুর হলেও মুক্তি মেলেনি—২৬ জানুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইনে ‘শো অন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে কারাগারেই রাখা হয় তাকে।
মিলনের আইনজীবী আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন বলেন,
“বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে মানবিক কারণেই প্যারোল চেয়েছিলাম। কিন্তু বলা হয়েছে—প্যারোল সম্ভব নয়,শুধু লাশ দেখানোর অনুমতি আছে।
চাচা হাজী মতিউর রহমানের কণ্ঠে ক্ষোভ আর অসহায়তা— আমার ভাতিজা কোনো কমিটিতে ছিল না। অজ্ঞাত আসামি করে ধরে নিয়ে পরে নাম ঢোকানো হয়েছে। বাবার লাশ নিয়ে কারাগারে আসতে হলো—এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি।

তিনি জানান, বাবার লাশ দেখে মিলন ডুকরে ডুকরে কেঁদেছে। কিন্তু জানাজায় যেতে পারেনি। বাবার কবরের মাটিতে এক মুঠো মাটিও দিতে পারেনি সে।
প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে এরশাদুল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন,এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এর আগেও এমন দৃশ্য দেখেছে দেশ। গত ২৪ জানুয়ারি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে না পেরে কারাগারের ফটকেই শেষবারের মতো তাদের মুখ দেখেন।
রাষ্ট্র চলে নিয়মে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—-নিয়মের ভেতরে কি এতটুকু মানবিকতা থাকার কথা নয়,যাতে একজন ছেলে অন্তত বাবার কবরের পাশে দাঁড়াতে পারে?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।