বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাইকার স্কলারশিপে জাপান, দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়ায় রাজউক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার
অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৫:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রশিক্ষণের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে কঠোর বার্তা জাইকার, ব্যয় করা অর্থ ফেরত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ। ফাইল ছবি

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম (সাইফ)—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির কাছে ব্যাখ্যা ও জবাবদিহির মুখে পড়েছে রাজউক। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ করে রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জাইকা। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশিক্ষণে জাপান সরকারের ব্যয় করা অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাজউকের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটা প্রভাবিত হতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাইফুল ইসলাম ছাড়াও রাজউকের আরও কয়েকজন অথরাইজড অফিসারের বিরুদ্ধে বিদেশে গিয়ে দেশে না ফেরার অভিযোগ রয়েছে।

জাইকার চিঠিতে তদন্ত ও জবাবদিহির তাগিদ

রাজউক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর জাইকার বাংলাদেশ কার্যালয়ের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ শোজি ইজুমির স্বাক্ষরে রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে অন্য দেশে চলে যাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা সরকারি সম্পদের অপচয় ঘটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জাইকা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করে মো. সাইফুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান এবং দেশে না ফেরার কারণ যাচাইয়ের তাগিদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত সিভিল সার্ভিস বিধিমালা, চাকরির নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রশিক্ষণে জাপান সরকারের ব্যয় করা অর্থ পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা লিখিতভাবে জাইকাকে জানানোর বিষয়টিও চিঠিতে গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এক বছরের মাস্টার্স শেষে দেশে ফেরার কথা

রাজউক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাইকার উন্নয়ন সহায়তা কাঠামোর আওতায় ‘ভূমিকম্প ও সুনামি দুর্যোগ প্রশমন’ বিষয়ে এক বছরের মাস্টার্স কোর্সে অংশ নিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানে যান রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম (সাইফ)।

প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের পর দেশে ফিরে তা নিজ প্রতিষ্ঠানের কাজে প্রয়োগ করা। তবে কোর্স শেষ হওয়ার পর তিনি দেশে ফেরেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্রের দাবি, জাইকা তাঁর দেশে ফেরার জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু রাজউক বা জাইকাকে অবহিত না করেই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় প্রশিক্ষণের শর্ত মানা হয়েছে কি না, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়বদ্ধতা কতটুকু—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে তাঁর অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কারণ এবং এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক’: রাজউকের সদস্য (প্রশাসন)

এ বিষয়ে রাজউকের সদস্য (প্রশাসন) মো. শাহীনুর আলম বলেন, জাইকার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে রাজউকসহ পুরো সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে জন্য আমরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করব। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন, নকশা অনুমোদন ও ভবন নির্মাণ তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে রাজউক। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর দেশে না ফেরার অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, নকশা অনুমোদন ও ইমারত নির্মাণ তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

বিদেশে গিয়ে দেশে না ফেরার অভিযোগ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাইফুল ইসলাম ছাড়াও রাজউকের অথরাইজড অফিসার মাকিদ এহসান, মো. ইমরুল হাসান, শেখ মহাব্বির রনি ও মোহাম্মদ হোসেনের নাম বিদেশে গিয়ে দেশে না ফেরার অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট তালিকায় রয়েছে। এ তালিকায় আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম যুক্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব কর্মকর্তার প্রত্যেকের অবস্থান, বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্য, ছুটি বা চাকরিসংক্রান্ত অনুমোদন এবং দেশে না ফেরার প্রকৃত কারণ পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

‘প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’: রাজউক চেয়ারম্যান

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জাইকা থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। মো. সাইফুল ইসলাম উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার বিষয়টি নথিতে উপস্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জাইকার চিঠির পর এখন কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দেশে না ফেরার কারণ অনুসন্ধান, প্রশিক্ষণসংক্রান্ত বন্ড ও চাকরির শর্ত যাচাই, সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নির্ধারণ এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব ও শর্ত পালনে জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জাইকার চিঠির পর রাজউকের তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যের ওপরই এখন নজর রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।