তুরস্কের বিমানবন্দরে ইরানের নারী ফুটবল দলের সদস্যরা। ছবি- বিবিসি বাংলা
রাজনৈতিক আশ্রয়ের নাটকীয়তা, চাপ ও শঙ্কার মধ্যেই তুরস্ক সীমান্ত পেরিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন ইরানের নারী ফুটবল দলের সদস্যরা।
নাটকীয়তা, বিতর্ক আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা এক অধ্যায়ের পর অবশেষে দেশে ফিরছেন ইরানের নারী ফুটবল দলের সদস্যরা। তুরস্কের গুরবুলাক সীমান্ত দিয়ে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গাড়িযোগে তাদের ইরানে নেওয়া হচ্ছে—পুরো পথজুড়েই ছিল টানটান উত্তেজনা।
এর আগে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইগদিরে অবতরণ করেন তারা। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে মালয়েশিয়া ও ওমান হয়ে মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে পৌঁছান দলটির সদস্যরা। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুলিশের নিরাপত্তায় সীমান্তের পথে রওনা দেন তারা।
ঘটনার সূত্রপাত এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে। জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এই ফুটবলাররা। পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয়, যখন দলের সাত সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন।
তবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নানা চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে শেষ পর্যন্ত পাঁচজন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে দলের সঙ্গেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, পরিবারকে ঘিরে সম্ভাব্য হুমকি ও চাপই এই সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে বড় কারণ হতে পারে। ফলে পুরো ঘটনাটি এখন শুধু ক্রীড়াঙ্গনের নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মানবাধিকারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আবার দেশে ফেরার এই যাত্রা তাই কেবল একটি দলের প্রত্যাবর্তন নয়—এটি এক অদৃশ্য চাপ, ভয় আর সাহসের জটিল গল্প, যা এখনও শেষ হয়নি…
