জাতীয় সংসদের ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে প্রণীত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ’ হুবহু বিল আকারে সংসদের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। একই সঙ্গে গণভবনে প্রতিষ্ঠিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত অধ্যাদেশও অপরিবর্তিতভাবে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মত মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথম দিনের বৈঠকে ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলো পরবর্তী বৈঠকে বিবেচনা করা হবে। আজ বুধবার দুপুর ২টায় আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৫ জানুয়ারি জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা দায়েরের পথও বন্ধ থাকবে।
এদিকে গণভবনে স্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত অধ্যাদেশও হুবহু পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এই জাদুঘরে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেশত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বয়সসীমা ৩৫ বছর করার প্রস্তাব উঠলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নতুন বিল আকারে সংসদে তোলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সংবিধান ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান সর্বোচ্চ, তবে জনআকাঙ্ক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে।” অন্যদিকে বিরোধী সদস্যরা প্রয়োজন হলে সংবিধান সংশোধনের কথাও তুলে ধরেন।
কমিটির সভাপতি জানান, এখনো অর্ধেকের কম অধ্যাদেশ পর্যালোচনা হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে সদস্যদের মতভেদ রয়েছে। সেগুলো পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
