ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যেন জমে উঠছে অদৃশ্য ঝড়। একদিকে হুমকি, অন্যদিকে পাল্টা হুঁশিয়ারি—বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এমন উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি কড়া বার্তা দিল ইরান।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালায়, তবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ‘চিরতরে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।
রোববার মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম X-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। তার ভাষায়, “ইরানের জ্বালানি খাতে কোনো আঘাত মানেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
তার কণ্ঠে ছিল শুধু হুমকি নয়, যেন এক আগাম সতর্কতার প্রতিধ্বনি—“এই পাল্টা আঘাত এমন হবে, যার ক্ষত কখনোই পূরণ করা যাবে না।” এমনকি তিনি ইঙ্গিত দেন, এই সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দামকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অস্থির করে তুলতে পারে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। সেই সঙ্গে সতর্ক করেন—অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। গালিবাফের এই বক্তব্যকে অনেকেই সেই হুমকির সরাসরি জবাব হিসেবে দেখছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনা এবং দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্র ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এখন যদি জ্বালানি অবকাঠামো টার্গেট করা শুরু হয়, তবে এই সংঘাত ভয়াবহ এক সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—যার আগুন ছড়িয়ে পড়বে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে।
সব মিলিয়ে, এটি আর কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা নয়—বরং এক বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি, যেখানে প্রতিটি হুমকি যেন আগুনে ঘি ঢালছে, আর বিশ্ব তাকিয়ে আছে—পরবর্তী বিস্ফোরণের অপেক্ষায়।
