১৫ দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের তৈরি মুক্তা-ঝিনুকের অলংকার। বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছবি: সংগৃহীত
গোপালগঞ্জে মুক্তার অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরিতে দক্ষতা উন্নয়নে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এতে অংশ নেওয়া দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলার ৩০ উদ্যোক্তার তৈরি মুক্তা-ঝিনুকের অলংকার ও শোপিসের প্রদর্শনী হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের সার্কিট হাউস রোডের জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছিল এই প্রদর্শনী। সকালে শুরু হওয়া প্রদর্শনী শেষ হয় দুপুরে।
এতে নিজের তৈরি পণ্য উপস্থাপন করেন গোপালগঞ্জ মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আশিকুল ইসলাম। তাঁর কাছে এটি বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় খাত। আশিকুল বলেন, ‘ঝিনুকে মুক্তা চাষ করা যায়। ঝিনুকের খোলস দিয়ে অলংকারসহ নানা সৌখিন পণ্য তৈরি হয়। মাংস দিয়ে করা যায় মজাদার স্যুপ। তাই ঝিনুকের কিছুই ফেলনা নয়। এখান থেকে আনন্দের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুন-নতুন অনেক কিছুই শিখেছি। আমি কারিগরি বিভাগে পড়াশেনা করছি। কারিগরি বিদ্যার সঙ্গে প্রশিক্ষণের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ঝিনুক-মুক্তানির্ভর শিল্প স্থাপন করব।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ থেকে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সুবর্ণা আক্তার নিজ এলাকায় পরিবেশবান্ধব কলম উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ি গিয়ে এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নেব। এতে সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা চাই। এটি পেলে আমি অনেক দূর যেতে পারবো, অনেককে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করব।
বুটিক নিয়ে কাজ করেন গোপালগঞ্জ শহরের সার্কিট হাউস রোডের বাসিন্দা শামীমা হক রিমা। তিনি বলেন, ‘আমি হাতে অলংকার তৈরি করি। ফেসবুকে এই প্রশিক্ষণের বিজ্ঞপ্তি দেখে আগ্রহী হাই। পরে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাই। এখানে হাতেকলমে ঝিনুকে মুক্তা চাষ, উৎপাদন, সংগ্রহ, অলংকার তৈরি ও বাজারজাতকরণের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণলভ্য জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আমরা অলংকার ও শোপিস তৈরি করেছি। এগুলোর প্রদর্শনী হয়েছে।’ মুক্তার অলংকার তৈরি করে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজার ধরতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।
২০২১ সালের মার্চ মাসে গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি ভবনে এই প্রকল্প যাত্রা শুরু করে। প্রকল্পটি থেকে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫২টি উপজেলায় ঝিনুকে মুক্তা চাষের ২০০ প্রদর্শনী করা হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. খালিদুজ্জামান বলেন, তারা ১ লাখ ইমেজ মুক্তা ও বিপুল পরিমাণ ঝিনুক উৎপাদন করেছেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তা, ঝিনুকের অলংকার ও শোপিসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় মুক্তার অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরিতে দক্ষতা উন্নয়নে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণে উদ্যোগ নেন। ১০ জেলার ৩০ জন তরুণ-তরুণী উদ্যোক্তা এতে অংশ নেন। এটি মুক্তার অলংকার তৈরি নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ প্রশিক্ষণ।
তিনি আরও জানান, এখানে ঝিনুকে মুক্তা চাষ, মুক্তা উৎপাদন, ঝিনুক থেকে মুক্তা সংগ্রহ, মুক্তার অলংকার তৈরি ও বাজারজাতকরণের ওপর হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারপর উদ্যোক্তারা প্রাকটিক্যালে অংশ নেন। তারাই মুক্তা-ঝিনুকের অলংকার ও শোপিস তৈরি করে প্রদর্শনী করেছেন।
প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে তারা হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবেন। তাদের উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজার ছাড়িয়ে বিদেশের বাজার দখল করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। পাশাপাশি তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও অবদান রাখতে পারবেন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ফেরদৌস সিদ্দিকী এখানে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব সামলেছেন। তিনি বলেন, মুক্তার অলংকার তৈরিতে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আবাসিক প্রশিক্ষণ। এখানে উদ্যোক্তা সিলেকশন ভালো হয়েছে। তারা সহজেই প্রশিক্ষণের শিক্ষা গ্রহণ করতে পেরেছেন। এ কারণেই প্রদর্শনীতে তারা সেরা পণ্যগুলো উৎপাদন করেছেন।
