ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা টেকনাফে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই ভেসে আসে গুলির শব্দ। সীমান্ত পেরিয়ে আসা চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির মুখোমুখি অবস্থান—টানা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শেষে ফেলে যাওয়া ইয়াবার বিশাল চালান উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক দুই অভিযানে জব্দ হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা।
বুধবার বিকেলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
ভোরের অভিযান: হ্নীলা সীমান্তে গোলাগুলি
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে হ্নীলা বিওপি সংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়। ঠিক তখনই সীমান্ত পেরিয়ে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে এগিয়ে আসতে দেখে সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয় সীমান্ত এলাকা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পাচারকারীরা ইয়াবার বস্তা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে নাফ নদী ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৭ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা। হোয়াইক্যংয়েও আরেক চালান
এর আগে একই দিন হোয়াইক্যং এলাকার মনিরঘোনা থেকে আরও ২ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়। দুটি অভিযান মিলিয়ে মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে, যা চলতি বছরে এই অঞ্চলে আটক হওয়া সবচেয়ে বড় চালান বলে জানিয়েছে বিজিবি।
মামলা প্রক্রিয়াধীন, নজরদারি জোরদার
উদ্ধারকৃত মাদক টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন,সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো মূল্যে সীমান্ত নিরাপদ রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
সীমান্তের অন্ধকারে চোরাকারবারিদের এই দুঃসাহসিক তৎপরতা আবারও প্রমাণ করল—মাদক কারবারিরা যতই কৌশল বদলাক, সতর্ক নজরদারিতে তাদের বড় চালানও ধরা পড়ছে।
