বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ড্যাপ সংশোধন ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ গেজেট বাতিলের দাবি বিআইপির

স্টাফ রিপোর্টার
ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আবাসন ব্যবসায়ীদের অনৈতিক চাহিদা পূরণে ঢাকার বিশদ অঞ্চল এলাকার (ড্যাপ) সংশোধন ও অনুমোদন করা ইমারত নির্মাণ বিধিমালার ‘ত্রুটিপূর্ণ’ গেজেট অবিলম্বে বাতিলের দাবি করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। পাশাপাশি ড্যাপের নতুন সংশোধনও চেয়েছেন তারা। গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলামটরে বিআইপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

এ সময় বিআইপির সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহম্মদ খান, সহসভাপতি সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন, পরিকল্পনাবিদ সালমা এ শফি, এ কে এম রিয়াজউদ্দিন, আবু হানিফ ও আবু নইম সোহাগ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পরিকল্পনাবিদসহ বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশবাদী, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের মতামত উপেক্ষা করে এই বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে জনবহুল ঢাকা শহরে উঁচু ভবনের সংখ্যা বাড়বে এবং পরিবহন, জরুরি পরিষেবাসহ সব নাগরিক সেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে। বাড়তি এই চাপ বহনের সক্ষমতা এ শহরের নেই। এই ধরনের উদ্যোগ ঢাকার বাসযোগ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক ‘বৈশ্বিক নগরায়ণ ধারণা-২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা হবে প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখ। সার্বিক বিবেচনায় এই শহরের নিরাপত্তা ও বাসযোগ্যতা তলানির মুখে।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহম্মদ খান বলেন, লিখিত সুপারিশ ও দাবি-দাওয়া গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এতে ঢাকা শহর রক্ষায় ফার ও জনঘনত্ব না বাড়াতে সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু এসব দাবি উপেক্ষা করে আবাসন ব্যবসায়ীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ড্যাপের সংশোধনের মাধ্যমে ফার ও জনঘনত্ব বাড়িয়েছে সরকার, যা অত্যন্ত উদ্বেগ ও হতাশার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন পরিকল্পনা ও আইনের বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ত আবাসন ব্যবসায়ী, শিল্প কারখানার মালিক, রাজনীতিবিদ, আমলা, স্বার্থসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে একটি ২১ দফা প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ড্যাপের জনঘনত্ব ও এফআরএ-ফার সংক্রান্ত সংশোধন প্রক্রিয়ায় শহরের বাসযোগ্যতা এবং অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধাদি ও পরিবেশের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষিজমি, জলাভূমি ও বন্যাপ্রবাহ এলাকায় যে কোনো ধরনের উন্নয়ন নিষিদ্ধ করতে হবে। গুলশান-বনানী-ধানমন্ডির মতো যেসব এলাকায় আবাসিক প্লটে উচ্চ এফএআর মান কমিয়ে গ্রহণযোগ্য মানে আনতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, সংশোধিত ড্যাপ ও খসড়া ঢাকা মহানগর ইমরাত বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, অনেক স্থানে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর-ফার) বহুলাংশে বাড়ানো হয়েছে, অনেক এলাকায় দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে। ফলে যেসব এলাকায় আগে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের সুযোগ ছিল, এখন সেখানে ১০ থেকে ১১ তলা পর্যন্ত ভবন করা যাবে। পাশাপাশি ভবনের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে ফ্লোর ইউনিটের সংখ্যাও বেড়েছে। ফ্ল্যাট নির্মাণের সুযোগও উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। ড্যাপের এই সংশোধনী পুরোপুরি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।