ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত
ঈদের আগের ব্যস্ত সন্ধ্যা—তেলের লাইনে অপেক্ষা, উত্তেজনা আর হঠাৎই বিস্ফোরণ! বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তর্ক মুহূর্তেই রূপ নেয় ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুরে। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন যুবদল নেতা সুমন পাইক (৪০)।
রোববার রাত ৯টার দিকে শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। তিনি বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং এই মামলার প্রধান আসামি।
এ ঘটনার বিবরণ যেন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য—গত ২০ মার্চ সন্ধ্যার আগে তেলের সংকটের কারণে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকার সীমা নির্ধারণ করে পাম্প কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই নিয়ম ভেঙে বেশি তেল নেওয়ার দাবি ঘিরে শুরু হয় তর্ক, যা দ্রুতই রূপ নেয় ভয়ঙ্কর সহিংসতায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সুমন পাইকের নির্দেশে একদল লোক ফিলিং স্টেশনে হামলা চালায়। তারা পাম্পের মালিক মুর্শিদ কুলি খানসহ কর্মচারীদের ওপর এলোপাতাড়ি মারধর করে। উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা তানবির মল্লিক, সাইফুল ইসলাম ও রেজোয়ানও রেহাই পাননি। রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
শুধু মারধরই নয়—অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা কর্মচারীদের কাছ থেকে তেল বিক্রির প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পুরো পাম্পজুড়ে তখন ভাঙচুর, আতঙ্ক আর চিৎকারের এক বিভীষিকাময় দৃশ্য!
এই ঘটনার প্রতিবাদে ঈদের দিন থেকেই বাগেরহাটের দুটি তেলের পাম্প বন্ধ হয়ে যায়।
রোববার বিকেলে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে টানানো হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ—যেখানে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাম্পের মালিক মুর্শিদ কুলি খান জানিয়েছেন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। ডিপো থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই সোমবার থেকে আবার চালু হবে কার্যক্রম।
এদিকে বাগেরহাট মডেল থানার এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, মামলার এক নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
ঘটনাটি এখন পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে—একটি তেলের লাইনের তর্ক কীভাবে মুহূর্তেই রূপ নিতে পারে সহিংস তাণ্ডবে, তারই ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে রইল বাগেরহাটের এই ঘটনা।
