ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ওপর অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে জনপদ। নিবন্ধনহীন একটি কথিত শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদার পরিমাণ রাতারাতি ৩০ টাকা থেকে ৭০ টাকায় বাড়ানো হলে ক্ষুব্ধ চালকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
রোববার সকালে কয়েকশ অটোরিকশাচালক মহাসড়কে অবস্থান নিলে দুপাশে অন্তত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। হঠাৎ অবরোধে যাত্রী ও পরিবহন চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর পুলিশ চাঁদা বন্ধের আশ্বাস দিলে চালকরা সড়ক ছাড়েন।
চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ‘দুকুল সিন্ডিকেট’
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার সামনে দীর্ঘদিন ধরে জেলা অটো সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায় করছিলেন নিজেকে শ্রমিক নেতা পরিচয় দেওয়া দুকুল মিয়া। তাঁর সহযোগী রফিক হোসেন ও মদন মিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি অটোরিকশা থেকে প্রথমে ২০ টাকা, পরে ৩০ টাকা এবং সাম্প্রতিক সময়ে ৭০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছিল—কোনো রসিদ ছাড়াই। চালকদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন চাঁদা বন্ধ থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার শুরু হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর চাঁদার অঙ্ক হঠাৎ বাড়তে থাকে। এমনকি এককালীন এক হাজার টাকা দেওয়ার চাপও সৃষ্টি করা হয়। চাঁদা না দিলে মারধর, গাড়ি আটকে রাখা ও স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে না দেওয়ার মতো অভিযোগও উঠেছে।
ফয়সালকে বাধা, তারপর বিস্ফোরণ
রোববার সকালে চালক মো. ফয়সাল মেডিকেল গেট এলাকায় গেলে তাঁর কাছেও ৭০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। প্রতিবাদ করায় তাঁকে যাত্রী তুলতে বাধা দেওয়া হয়। পরে ত্রিশালে ফিরে অন্য চালকদের বিষয়টি জানালে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে শত শত চালক রাস্তায় নেমে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
বিক্ষোভকারী চালক মো. রহিমের ভাষায়,
“চাঁদা না দিলে স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেয় না, উল্টো মারধর করে। বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি।”
পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক
ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন জানান, চালকদের হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা বিক্ষোভ করেন। পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে চাঁদা বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলে চালকরা অবরোধ তুলে নেন।
এমপির কড়া বার্তা
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ওয়াহাব আকন্দ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন।
