ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ত্রিশালে সোমবার রাতটা নেমে এসেছিল এক ভয়ংকর রক্তাক্ত অধ্যায় নিয়ে। রাত প্রায় ১০টা। ব্যস্ত বগারবাজার চৌরাস্তা তখন ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ। ঠিক সেই সময়ই দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে প্রাণ হারান সুসেন চন্দ্র সরকার (৬২)—একজন প্রতিষ্ঠিত চাল ব্যবসায়ী, একই সঙ্গে যুবলীগ নেতা।
আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের বগারবাজারে নিজের চালের দোকানে বসেই তিনি যেন মৃত্যুর ফাঁদে পড়েন। অতর্কিত হামলায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। রক্তে ভেসে যায় দোকানের মেঝে। হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা—পরিবারের দাবি, দোকানে রাখা প্রায় ১৫ লাখ টাকা লুট করে শাটার নামিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় খুনিরা।
নিহত সুসেন চন্দ্র সরকার ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের সাউথকান্দা গ্রামের বাসিন্দা, মৃত রাজবিহারী সরকারের ছেলে। তিনি হরিরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সরকার জুয়েল তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পরের দৃশ্য আরও হৃদয়বিদারক। দীর্ঘ সময় বাবাকে ফোনে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে দোকানে ছুটে আসেন বড় ছেলে সুজন। দোকানের শাটার বন্ধ—কিন্তু তালা খোলা। সন্দেহ নিয়ে শাটার তুলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিভীষিকা—রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন বাবা। চিৎকারে ছুটে আসে আশপাশের মানুষ। দ্রুত তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার, ঠিক সেই সময় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহতের ভাই মৃত্যুঞ্জয় সরকার কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন,
এর আগেও দোকানে চুরি হয়েছে। টাকা লাগলে টাকা নিয়ে যেত—কিন্তু আমার ভাইকে কেন হত্যা করল? এখন ওর দুই ছেলে আর এক মেয়ের কী হবে? ওদের কে দেখবে?
ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
একজন ব্যবসায়ী, একজন রাজনৈতিক নেতা, একজন পিতা—সব পরিচয়ের অবসান ঘটিয়ে ত্রিশালের রাতে পড়ে রইল রক্তের দাগ আর অসংখ্য প্রশ্ন। নিরাপত্তার দাবিতে এখন শঙ্কিত পুরো জনপদ।
