বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্গোৎসবের বিদায়ঘণ্টা, মর্ত্যলোক ছেড়ে গেলেন দেবী, সিঁদুর খেলা, ঢাকের বাদ্য আর অশ্রুসজল প্রার্থনায় বিজয়া দশমী উদযাপন; বিসর্জনে শেষ হলো ছয় দিনের শারদীয় উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১০:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেবী বিসর্জনের দিনটিতে বিষাদের পাশাপাশি উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল সারাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, সিঁদুর খেলা আর বিদায়ের বিষাদে শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে গেলেন দেবী দুর্গা। বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের কণ্ঠে ছিল একটাই প্রার্থনা—‘আসছে বছর আবার হবে, মা আবার আসবেন মর্ত্যলোকে।

সকাল থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। ঢাকের ছন্দ, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির সঙ্গে মিশে ছিল বিদায়ের সুর। দেবীকে বরণ, চরণে সিঁদুর নিবেদন, আরতি ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষবারের মতো মায়ের কাছে নিজেদের মনের বাসনা জানান ভক্তরা। এরপর শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত সিঁদুর খেলা। একে অপরের কপাল ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে, মিষ্টিমুখ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন নারীরা।

তবে উৎসবের রঙিন আবহের আড়ালে ছিল বিচ্ছেদের বেদনা। মণ্ডপে মণ্ডপে নাচে-গানে আনন্দ ভাগাভাগি করলেও প্রতিমা বিসর্জনের সময় অনেকের চোখেমুখে ফুটে ওঠে বিষণ্নতা। দেবীকে বিদায় জানানোর এই আবেগঘন মুহূর্তে আনন্দ আর বিষাদ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষও উৎসবে অংশ নিয়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেন।

এবার ঢাকা মহানগরীর ২৫৮টিসহ সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতির প্রত্যাশা নিয়ে গত শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। সপ্তমী তিথি দুই দিন পড়ায় প্রচলিত পাঁচ দিনের পরিবর্তে এবার ছয় দিন ধরে চলে শারদীয় দুর্গাপূজা।

শনিবার মহাসপ্তমী ও রোববার দ্বিতীয় দিনের সপ্তমী পূজার পর সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

ঘোটকে আগমন, নৌকায় গমন

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গা ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘোটকে আগমনের ফল ‘ফসল ও শস্যহানি’। অন্যদিকে, দেবী এবার নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে বিদায় নিয়েছেন। পঞ্জিকামতে, নৌকায় গমনের ফল ‘শস্যবৃদ্ধি’।

বিজয়া দশমীর সকালে প্রতিমা বিসর্জনের আগে চলে দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয় দশমী বিহিত পূজা। এরপর দর্পণ বিসর্জন, আরতি, দেবী বরণ ও সিঁদুর খেলার আয়োজন করা হয়। পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধায় নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন। ফুল, সিঁদুর ও নানা অলংকারে সাজানো হয় দেবীকে। পুরোহিতরা দেবীর উদ্দেশে সেদ্ধ চালের নৈবেদ্য, কচু-ঘেচু ও শাপলা নিবেদন করেন। শেষ মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে জানানো হয় বিদায়।

রাজধানীর মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের আবহ

বিজয়া দশমীর সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ছিল ভক্তদের ভিড়। বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কের গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপ, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মন্দিরে দিনভর চলে দেবী বরণ, সিঁদুর খেলা ও বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা।

বনানীর পূজামণ্ডপে সকাল থেকেই বরণডালায় সিঁদুর, পান, ফুল ও মিষ্টি নিয়ে জড়ো হন নারীরা। একে একে দেবীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে ও মিষ্টি নিবেদন করে তাঁকে বরণ করেন তাঁরা। পরে পরস্পরের কপাল ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। ঢাকের বাদ্য ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মণ্ডপ।

একই চিত্র দেখা যায় রমনা কালীমন্দিরে। ভক্তদের উপস্থিতিতে সকাল থেকেই প্রাণবন্ত ছিল মন্দির প্রাঙ্গণ। একদিকে দেবীর চরণে শেষ অঞ্জলি ও বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা, অন্যদিকে ঢাকের তালে তরুণ-তরুণীদের নাচে-গানে উৎসবের আবহ। নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও অংশ নেয় আয়োজনে। সিঁদুর খেলা ঘিরে ছিল পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও মিষ্টিমুখের আয়োজন।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও সকাল থেকে ভক্তদের সমাগম ঘটে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর দেবী বরণ ও সিঁদুর খেলায় অংশ নেন নারীরা। লাল-সাদা শাড়িতে সজ্জিত নারীদের সিঁদুর মাখামাখি, ঢাকের বাদ্য ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মন্দিরেও সকাল থেকে ভিড় করেন ভক্তরা। নারীরা বরণের থালায় সিঁদুর, পান, ফুল ও মিষ্টি নিয়ে দেবীর সামনে হাজির হন। দেবীর মুখে মিষ্টি ছুঁইয়ে ও চরণে সিঁদুর নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বরণের আনুষ্ঠানিকতা। পরে একে অপরের কপাল ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তাঁরা।

সিঁদুর খেলা শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে চলে শুভেচ্ছা বিনিময়। ছোটরা বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়, সমবয়সীরা কোলাকুলি করে। মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে একে অপরকে জানায় বিজয়ার শুভেচ্ছা। তবে আনন্দঘন এসব মুহূর্তেও দেবীকে বিদায় দেওয়ার বেদনা অনুভব করেন ভক্তরা।

ঢাক-ঢোলের তালে বিসর্জনের শোভাযাত্রা

দুপুরের পর রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনের প্রস্তুতি শুরু হয়। ট্রাক ও ঠেলাগাড়িতে করে প্রতিমা নিয়ে পূজারিরা সমবেত হন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে। সেখানে নাচে-গানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। রং ছিটানো, ঢাকঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের তালে এবং উলুধ্বনিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বন্ধুদের সঙ্গে নাচে-গানে অংশ নেওয়া তরুণ সৌমিক মজুমদার বলেন, বিদায়ের সময় মন খারাপ হয়। কিন্তু মা আবার আসবেন—এই বিশ্বাস আমাদের আনন্দ দেয়। আসছে বছর আবার দেখব মাকে—এই প্রত্যাশা নিয়েই বিদায়ের মুহূর্তটাকে স্মরণীয় করে রাখি।

বিকেল ৪টার দিকে ঢাকেশ্বরীর পূজামণ্ডপ থেকে রাজঘট ও নবপত্রিকা বা কলাবউ আনার পর একযোগে শুরু হয় বিসর্জনের শোভাযাত্রা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটিসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নেন হাজারো মানুষ। ট্রাকবাহী প্রতিমার পাশাপাশি বিচিত্র সাজে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও তরুণেরা হেঁটে এবং বিভিন্ন যানবাহনে করে শোভাযাত্রায় যোগ দেন। অনেককে দুর্গা, শিব ও মহিষাসুরসহ বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রের সাজে দেখা যায়।

শোভাযাত্রার পথজুড়ে ছিল মানুষের ভিড়। রাস্তার দুই পাশে এবং আশপাশের ভবনের ছাদ ও বারান্দায় দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানান। ঢাকের তালে নাচ, বাদ্যযন্ত্রের শব্দ ও ভক্তদের উচ্ছ্বাসে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পেরিয়ে শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মাজার, রেলওয়ে হাসপাতাল, নগর ভবন, গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্তান, নবাবপুর রোড ও বাহাদুর শাহ পার্ক হয়ে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে পৌঁছায়। সেখানে প্রতিমা বহনকারী নৌকাগুলো মাঝনদীতে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয় দেবী দুর্গাকে। রাত পর্যন্ত চলে বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর শান্তিজল গ্রহণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিজয়ার আনুষ্ঠানিকতা।

রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জনের শোভাযাত্রার পথ ধরে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুপুর থেকেই পলাশীর মোড়ের চারপাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কক্সবাজার সৈকতে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বিজয়া দশমীর বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে সাগরে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেন ভক্তরা। এ সময় সৈকতে সমবেত হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। পর্যটকেরাও বালুচরে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য।

বিসর্জনের আগে বিকেল ৪টায় বিজয়ামঞ্চে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু জানান, এবার কক্সবাজারে ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫টি প্রতিমা পূজা এবং ১৬৯টি ঘটপূজা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার বিকেল থেকে কক্সবাজার সৈকতে অন্তত ৪০০টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

পতেঙ্গা সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বুধবার দুপুরের পর থেকে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। নগরের বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে ট্রাক, মিনি ট্রাকসহ নানা যানবাহনে করে একে একে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। পরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাগরে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমাগুলো।

পতেঙ্গা সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পূজা কমিটির তথ্যমতে, এবার চট্টগ্রামে দুই হাজার ২৭৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিদায়ের বিষাদ, ফিরে আসার প্রত্যাশা

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব। মণ্ডপে মণ্ডপে এখন বিদায়ের আবহ, ভক্তদের মনে আগামী বছরের অপেক্ষা। ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী দুর্গার আগমন অশুভ শক্তির বিনাশ ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে আসে। আর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তরা প্রার্থনা করেন—পৃথিবী থেকে দূর হোক অশুভ শক্তি, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি।

দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে ভক্তরা ঘরে ফিরেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন উৎসবের স্মৃতি, সিঁদুরের রং, ঢাকের মাদকতাময় ছন্দ আর আবারও ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। তাই বিজয়া দশমী শুধু বিদায়ের দিন নয়, এটি নতুন প্রত্যাশা, সম্প্রীতি ও আগামী শরতে দেবীর পুনরাগমনের অপেক্ষারও দিন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।