শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে: অর্থ উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
ডিসেম্বর ৯, ২০২৫ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছাই দুর্নীতি দমন ও সমাজের পচন ঠেকাতে পারে। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওই কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ আতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, দুদক কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ, মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী। দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। দুদকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে দিবসটি পালন উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধনকালে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত না করার আহবান জানিয়েছেন। দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করলে দুর্নীতির লাগাম অনেকটাই টেনে ধরা সম্ভব হবে।

আলোচনা সভায় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কাজের পদ্ধতিকে (সিস্টেম) উন্নত করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আগে দুর্নীতিপরায়ণদের সামাজিকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হতো, ঘৃণা করা হতো।সালেহ উদ্দিন আর্থিক খাত নিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বড় বিষয়। বিগত দিনে এই খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। সে তুলনায় শাস্তি কতোটুকু হচ্ছে- এই প্রশ্ন রয়েই গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা সারাজীবন কারাগারে থাকলেও বিচার শেষ হয় না, সাজা হয় না। অথচ তারা দুর্নীতি করে দেশের অর্থনীতির যে ক্ষতি করেছে তা অপূরণীয়। সমাজের সকল পর্যায় থেকে দুর্নীতির তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

এক সময়ে সামাজিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্তদের অবস্থা তুলে ধরে বলেন, তারা ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে পারতো না। কারণ তাদেরকে কেউ পছন্দ করতো না। আর এখন দেখা যায় উল্টো চিত্র। আর এখন লাফ দিয়ে আমরা যাই বিয়ে দিতে, সম্মান জানাতে। বর্তমানে দুর্নীতিবাজ পুরস্কৃত হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, শুধু শাস্তি দিয়ে পৃথিবীর কোনো দেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব হয়নি। দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা জরুরি। দেশে ১৪-১৫ ধরনের দুর্নীতি রয়েছে। অথচ শুধু ঘুষ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে দুর্নীতি করা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক উপায়ে। দুর্নীতির নিত্য নতুন কৌশল সামনে আছে।

সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ বছর ধরে যারা অপরাধ করেছেন তাদেরকে রাজনৈতিক এলিটরা কোটি টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পার করে দিয়েছেন। জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ওইসব ব্যক্তিদের এবারের জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে নিজেদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন সময় সমাজের উপযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার।

চেয়ারম্যান বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি ঢুকে গেছে সেটাকে ধীরে ধীরে নির্মূল করা সম্ভব। গত ১৫ বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। ওইসব দেশে আমাদের কার্যকর যোগাযোগ নেই, এমনকি যোগাযোগের পথও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাষ্ট্রের অর্থ ‘ডার্টি মানি’ হিসেবে নানা দেশে পড়ে আছে। আগে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে টাকা আসতো। আর এখন বাংলাদেশ থেকে অর্থ ওইসব দেশে যায়। পরে ভিন্ন কৌশলে দেশে আনা হয়। সেই অর্থ বৈধও হয়ে যায়। ওইসব লেনদেনে বিভিন্ন ধরনের ইনসেন্টিভও থাকে। এত বড় কাঠামো একদিনে, একমাসে বা এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়।

সভায় বক্তারা বলেন, ভোট হলে যদি শতভাগ লোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোট দেয় তারপরও দুর্নীতি দূর হবে না। আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়েই খারাপ শাসক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের উৎখাত করার সময় এসেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে বায়তুল মোকাররমের খতিব কেউ বাকি নেই। এটিই প্রমাণ করে দুর্নীতি কত গভীরে পৌঁছেছে।

আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছিলেন। সেখানে কৃষিজমির পরিমাণ দেখানো হয়েছিল ৫ দশমিক ২১ একর। ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন যাচাই করেও তাতে সমস্যা পাওয়া যায়নি। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, জমি রয়েছে ২৯ একর। গাড়ির বিবরণীতেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত দুটি গাড়ি যুক্ত ছিল, যার একটি তৎকালীন এক এমপি এবং অন্যটি সাবেক যুব প্রতিমন্ত্রীর নামে, যা কিনা সুধা সদনের নামে কেনা হয়েছিল এবং সরকারের ভর্তুকিও দেওয়া হয়নি। যদি তখনই এসব অসঙ্গতি ধরা হতো, সে ক্ষেত্রে তার মনোনয়ন বাতিল হতো। সেটি হলে তিনি এমপি বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। এমনকি তার দল ক্ষমতায় আসত কি না সেটাও প্রশ্ন ছিল।

কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ বলেন, সরকারি সব প্রকল্পের ডিটেইলস অনলাইনে প্রকাশ করতে হবে। এমনকি কোনো তথ্য আপডেট হলেও তা জনগণকে জানাতে হবে। টাকা একবার চুরি হয়ে গেলে তা উদ্ধার করা দুরূহ। একারণে আগেই সচেতন হতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দুদক মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, আবদুল্লাহ-আল-জাহিদ, আক্তার হোসেন, আবু হেনা মুস্তফা জামান, মোকাম্মেল হক, দুদকের পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, উপসহকারী পরিচালকরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।