মঙ্গলবার, ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্নীতি দমন কমিশন-এ নেতৃত্ব পরিবর্তন পদত্যাগ করলেন চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৩, ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন এবং কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ

অবশেষে সরে দাঁড়ালেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার। চার বছরের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে রাষ্ট্রপতি বরাবর লেখা পদত্যাগপত্র পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সদ্য সাবেক

চেয়ারম্যান ড. মোমেন বলেন,“আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দায়িত্ব নিয়ে দুর্নীতি দমনে সাধ্যমতো কাজ করেছি। এখন নতুন সরকার এসেছে—তাদের প্রত্যাশা আছে, সেটি আমরা অনুভব করেছি। সেই কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের চেয়েও যোগ্য কেউ দায়িত্ব নেবেন।”

পেছনের প্রেক্ষাপট- নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনা হয়। এ প্রেক্ষাপটে দুদকের বর্তমান নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের দায়িত্বে বহাল রাখার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে—এমন বার্তা পাওয়ার পরই তারা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

যাঁরা পদত্যাগ করলেন-
চেয়ারম্যান: ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন
কমিশনার (তদন্ত): মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী
কমিশনার (অনুসন্ধান): ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ
মঙ্গলবার দুপুরে তারা পৃথকভাবে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেন। পরে একসঙ্গে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে তা দুদক সচিবের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠানো হয়। বিকেল পৌনে তিনটার দিকে তারা একসঙ্গে দুদক কার্যালয় ত্যাগ করেন।

‘নখ-দন্তহীন’ বিতর্কে কী বললেন চেয়ারম্যান?

দুদক নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনা—‘নখ-দন্তহীন কমিশন’—প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ড. মোমেন বলেন,
“এটা বিচার করার মালিক আপনারা (সাংবাদিক)। আমাদের সময়ে নখ-দন্ত গজিয়েছে কি না, তা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।”
রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের নিজস্ব ইশতেহার ও প্রত্যাশা থাকে, সরকার সে অনুযায়ী কাজ করবে—এতে তিনি অস্বাভাবিক কিছু দেখেন না।

দায়িত্বকালে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ- ড. মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি, আমলা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পাঁচ শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক মামলায় চার্জশিট আদালতে দাখিল হয়েছে এবং একাধিক মামলায় সাজাও হয়েছে।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দেশের ও বিদেশের প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেন—যা সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আগের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেছিলেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন নেতৃত্ব এলেও মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই আবারও পরিবর্তন এলো দুদকের শীর্ষপদে।

নতুন সরকারের অধীনে দুদকের নেতৃত্বে কাদের আনা হবে—তা এখন দেখার বিষয়। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই ধারাবাহিকতা দেশের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে, সে প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।