বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশে আট বছরে নতুন ১২ মাদক

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশে বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন মাদক নিয়ে এসেছে চোরাকারবারিরা। সবচেয়ে বেশি নতুন মাদক এসেছে গত আট বছরে। এই সময়ে দেশে ১২ ধরনের নতুন মাদক প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া নতুন আঙ্গিকে হেরোইন ও কোকেনের চালানও এসেছে।

মাদকের বিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলেছে সেবনকারীদের প্রবণতাও। আশির দশকের শুরুতে যে প্রজন্ম হেরোইনের নেশায় ডুবে ছিল, তারা পরবর্তী সময়ে ফেনসিডিলে ঝুঁকে পড়ে। ১৯৮০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত হেরোইন ও ফেনসিডিল সমানতালে জায়গা ধরে রেখেছিল মাদক জগতে। দুটিই নিস্তেজকারক মাদক। একুশ শতকের শুরুতে নতুন মাদক হিসেবে আসে ইয়াবা। তখন মাদকাসক্তরা এতে আসক্ত হয়। এখনও ইয়াবা তার অবস্থান ধরে রেখেছে এবং অন্য মাদকের চেয়ে বেশিদিন রাজত্ব করছে। ২০২১ সাল থেকে ইয়াবার বাজার দখলের চেষ্টা করছে ক্রিস্টাল মেথ বা আইস।
১৯৫০ সাল থেকে বাংলাদেশে কখন কোন মাদকের চালান ঢুকতে শুরু করে, কোন পথে আসছে, কীভাবে আসছে, কোন মাদক কত দিন বাজার ধরে রেখেছে এবং মাদকাসক্তদের নতুন মাদকে ঝুঁকে পড়ার কারণ ও ঘটনা খোঁজার চেষ্টা করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের একটি চৌকস দল। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখে গেছে, ১৯৫০ সাল থেকে স্বাধীনতার পরও এ দেশে প্রধান মাদক ছিল গাঁজা, আফিম, দেশি মদ, ভাং ও তাড়ি। স্বাধীনতার পর গাঁজা ও আফিম উৎপাদন এবং কেনাবেচার জন্য লাইসেন্স নিতে হতো তখনকার সরকারের কাছ থেকে। নির্ধারিত দোকানে বিক্রি করা হতো এ দুই মাদক। স্বাধীনের পর ওইগুলোর সঙ্গে মৃতসঞ্জীবনী সুরা নামে আয়ুর্বেদিক সিরাপ বাজারজাত শুরু হয় বাংলাদেশে। এটিও মাদক। এটি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও মাদকের বিকল্প হিসেবে অপব্যবহার হয়। ১৯৭৫ সালের দিকে এটি সরকার বন্ধ করে দেয়। ১৯৮৭ সালে এ দেশে গাঁজা উৎপাদন নিষিদ্ধ এবং ১৯৮৯ সালে বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে ১৯৮৪ সালে এ দেশে আফিম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। গাঁজা নওগাঁ জেলায় চাষ হতো এবং আফিম আসত ভারত থেকে। তবে আফিম সেভাবে ব্যবহার না হলেও গাঁজা এখনও তার স্থান দখল করে রেখেছে।

হেরোইন অনেক আগে থেকে কমবেশি এ দেশে মাদকসেবীদের কাছে ব্যবহার হয়ে এলেও মূলত আশির দশকে এটি বেশি বিস্তৃত হয়। হেরোইন ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসে। একই সময় ভারত থেকে সীমান্তপথে ফেনসিডিলের চালানও আসা শুরু করে। তবে ব্যাপক আকারে ফেনসিডিল সরবরাহ ও ব্যবহার বৃদ্ধি পায় নব্বই দশকে। এর আগে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মাদকাসক্তদের কাছে জনপ্রিয় মাদক হিসেবে পরিচিত ছিল হেরোইন। ১৯৯০ সালের পর মাদকসেবীদের কাছে ফেনসিডিল জনপ্রিয়তা পাওয়ায় হেরোইনের চাহিদা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ফেনসিডিল ছাড়াও নব্বই দশকে আসে ইনজেকটিং ড্রাগ বুপ্রেনরফিন। এটিও আসে ভারত থেকে। একুশ শতকের শুরুর দিকে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসা শুরু করে। ২০০৭ সালের পর থেকেই এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখন কমতে থাকে ফেনসিডিল ও হেরোইনের চাহিদা। এখনও এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০১০ সালের দিকে মিয়ানমার থেকে আইস (ক্রিস্টাল মেথ) আসা শুরু করলেও তখন সেভাবে বাজার ধরতে পারেনি। এই মাদক প্রথম জব্দ হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০২০ সাল থেকে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে।

‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগান নিয়ে ২০১৮ সালের ৪ মে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছিল তৎকালীন সরকার। সে অভিযানের মধ্যেই দেশে নতুন মাদক ঢোকে। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১২ ধরনের নতুন মাদক এসেছে। এর মধ্যে এমডিএমবি মাদক খাত, আইস, এলএসডি (লাইসার্জিক এসিড ডাইথ্যালামাইড), এমডিএমএ (মেথিলিন ডাই-অক্সি মেথা অ্যামফিটামিন), ডাইমেথাইলট্রিপটামিন (ডিএমটি), ডাইমেথক্সিব্রোমো অ্যামফিটামিন (ডিওবি), ম্যাজিক মাশরুম, কিটামিন, কুশ, ট্যাপেন্টাডল এবং ট্রামাডলের মতো মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে নানা পথে। এসব নতুন মাদক ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ডাকযোগে বিমানে পার্সেল হিসেবে আসে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে সেপ্টেম্বরে টেকনাফে হেরোইন পাওয়া যায় নতুন আঙ্গিকে। চ্যাপ্টা চারকোনা জমাট বাঁধা বস্তুটি টেকনাফ থেকে উদ্ধার করে রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা জানতে পেরেছিলেন, সেটি হেরোইন। পাউডার হেরোইনের চেয়ে অন্তত ১০ গুণ ক্ষমতাসম্পন্ন জমাট বাঁধা হেরোইন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো মেলে ব্ল্যাক কোকেন নামে নতুন মাদক। ফরিদপুর জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া পেনসিলের শিসের মতো কালো টুকরো ওই বস্তু রাসায়নিক পরীক্ষাগারে নেওয়ার পর জানা গিয়েছিলে, সেটি ব্ল্যাক কোকেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৫ মে থেকে ২০২০ সালের ৩১ মে পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সারাদেশে ৫৩৫ জন নিহত হয়েছেন। আত্মসমর্পণের সুযোগ পান ১২৩ মাদক কারবারি। এর পরও মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. উমর ফারুক বলেন, ‘মাদক চোরাচালানের ক্ষেত্রে সীমান্ত নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান। কারণ সীমান্ত দিয়েই মাদক অনুপ্রবেশ করে। সীমান্তে মাদক অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক প্রতিরোধে সব সংস্থার সমন্বয়ে আলাদা ইউনিট গঠন করতে হবে, যারা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে। রাষ্ট্র যদি আন্তরিকভাবে চায়, তাহলে মাদক প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক যে সম্পর্কগুলো রয়েছে, সেখানে কূটনৈতিক পর্যায়ে মাদক পাচার বন্ধে সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে। কেন এক মাদক ছেড়ে নতুন মাদকে আকর্ষণ
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক মাদক থেকে আরেক মাদকে হাত বাড়ানোর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। তবে প্রধান কারণ, একই মাদক দীর্ঘদিন সেবনে শরীর অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে আগে যে ডোজে নেশা হতো, তা আর হয় না। তখন তারা আরও শক্তিশালী মাদক খোঁজে। এ ছাড়া সহজলভ্যতা, মূল্য, সামাজিক প্রভাব ও ট্রেন্ড থেকেও নতুন মাদকে ঝোঁকে আসক্তরা। তরুণদের মধ্যে আড্ডা, পার্টিতে যখন কোনো নতুন মাদক ‘জনপ্রিয়’ হয়, সেটার দিকে ঝুঁকে পড়ে অন্যরাও। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপেও সেবনপ্রবণতা বদলায়। কারণ কারবারিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে নতুন মাদকের আবির্ভাব ঘটায়। এ ছাড়া একই মাদকের কারবার করলে মুনাফার পরিমাণ কমে আসে। যে কারণে নতুন মাদক বাজারজাত করলে মুনাফা বেশি পাওয়া যায়। মাদকের বাজারও সে অনুযায়ী রূপ বদলায়। এর প্রভাব পড়ে তরুণ সমাজ ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
ভেপ ও ই-সিগারেটের মাধ্যমে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন মাদক ‘এমডিএমবি’। দেশে প্রথমবারের মতো গত ডিসেম্বরে এই মাদক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এই মাদক আসে মালয়েশিয়া থেকে।

আশির দশকে হেরোইনের বাজার
দেশে হেরোইনের অনুপ্রবেশ ঘটে আশির দশকে। তবে গাঁজা নিষিদ্ধ হওয়ার পর একচেটিয়া মাদকের বাজার দখল করে নেয় ঘুম-অবসাদ (নিস্তেজ) উৎপাদনকারী মাদক হেরোইন। ১৯৮৪ সালে পাবনায় প্রথম হেরোইন ধরা পড়েছিল। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পুরোদমে রাজত্ব করেছে হেরোইন। ফেনসিডিল এলেও হেরোইনের চাহিদা প্রথম দিকে তেমন কমেনি। কারণ হেরোইনের আসক্তি খুব বেশি। অনেকে হেরোইন ও ফেনসিডিল অদলবদল করে খেত। এ দুই মাদক আফিম উদ্ভূত মাদকদ্রব্য এবং নিস্তেজকারক মাদক। ইয়াবা আসার পর হেরোইন, ফেনসিডিলের চাহিদা কমতে থাকে। হেরোইন ও ফেনসিডিল এখনও রয়েছে। গাঁজার চাহিদাও সমানতালে। যশোরের বেনাপোল, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসছে ফেনসিডিল।

উদ্ধারের পরও জানা নেই সেটি ইয়াবা
২০০২ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর নিকেতনে ছোট ট্যাবলেট জব্দ হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে। ট্যাবলেটের গায়ে ডব্লিউওয়াই লেখা ছিল। অন্য মাদকের সঙ্গে থাকার কারণে মাদক সন্দেহে ১২০ ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। দুদিন পর বনশ্রী থেকে ডব্লিউওয়াই লেখা আরও ৪০২ ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। তখনও ডিএনসির কর্মকর্তারা জানতেন না, এটি ইয়াবা। রাসায়নিক পরীক্ষাগারে নিয়ে তারা জানতে পারেন, এগুলো ইয়াবা। তবে ২০০৫ সালের পর থেকে ইয়াবার অপব্যবহার বেড়েছে। আকারে ছোট, বহনে সুবিধা, দাম হাতের নাগালে হওয়ায় মাদকসেবীদের কাছে এটি এখনও ‘জনপ্রিয়’। এই উত্তেজক মাদক মিয়ানমার থেকে আসছে সমুদ্রপথে। ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ একটা দৃষ্টান্ত হবে।

২০১৮ সালের আগস্টে দেশে নতুন মাদক ‘খাত’ আসে আকাশপথে। গ্রিন টির নামে নিউ সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবস্টেনসেস-এনপিএস বা খাত নামে মাদক আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া থেকে দেশে আনে কারবারিরা। এটি চায়ের পাতার মতো দেখতে। ডিএনসি খাতের সেই চালান জব্দ করে। আইসের অপব্যবহার বাড়ছে
আইস আলোচনায় আসে ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। এদিন জিগাতলায় একটি ল্যাবের সন্ধান পান ডিএনসি কর্মকর্তারা। সেখান থেকে ৮ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়। এটি অতি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাদক। ২০২১ সাল থেকে আইসের অপব্যবহার বেড়েছে। ডিএনসি, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড ও বিজিবি যেসব মাদক সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উদ্ধার করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ইয়াবার পর আইস উদ্ধারের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। আইসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর চালান বেশি আসছে মিয়ানমার থেকে। ২০২১ সালে প্রায় ৩৭ কেজি আইস জব্দ হয়। পরের বছর জব্দ হয় তিন গুণ; ১১৩ কেজি। ২০২৩ সালে আরও বেড়ে যায়। এ বছরে ১৮৬ কেজি ৬৩২ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়। গত বছর জব্দের পরিমাণ ১১২ কেজি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, কোনো মাদকের চাহিদা বেশি হলে সরবরাহ বাড়ে। সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে ধরাও পড়বে বেশি। আইসের ক্ষেত্রে তাই ঘটছে। এটি অতি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাদক। এ কারণে অনেকে ইয়াবা ছেড়ে আইসের দিকে ঝুঁকছে।

সিনথেটিক ড্রাগ এমডিএমএ প্রথম উদ্ধার হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জিগাতলায় এমডিএমএ জব্দ করেছিল ডিএনসি। এখনও এ মাদক পাওয়া যাচ্ছে। এলএসডি নামের মাদকের ব্যবহার দেশে কবে থেকে শুরু হয়েছে, তা কারও জানা নেই। তবে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই মহাখালী ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে এলএসডির ২৫টি স্ট্রিপ ও তরল এলএসডি উদ্ধারের পর এ মাদক সামনে আসে। তেলের বোতলে কানাডা থেকে তরল এলএসডি ও ডাকটিকিটের মতো দেখতে এলএসডি স্ট্রিপ আনা হয়েছিল।

ডিএমটি ও ডিওবি যেভাবে পাওয়া গেল
২০২১ সালের জুনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে প্রথম ডিএমটি জব্দ করা হয়। তখন র‍্যাব ৬০০ মিলিগ্রাম উদ্ধার করে। এটা সেবনে হ্যালুসিনেশন হয়।
ডিওবি নতুন মাদক হিসেবে সামনে আসে ২০২১ সালের নভেম্বরে। তখন ডিওবিসহ খুলনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। ডার্ক ওয়েবে যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রেপ্তার আসিফ আহমেদ পোল্যান্ড থেকে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ২০০ ব্লট ডিওবি এনেছিলেন। ৯০টি ব্লট বিক্রির পর ধরা পড়েন তিনি।

কিটামিন, ম্যাজিক মাশরুম ও কুশ
সাদা পাউডার আকারের কিটামিন প্রথম ধরা পড়ে ২০১১ সালে। পরে সেভাবে কিটামিন আর সামনে আসেনি। সম্প্রতি নতুন করে কিটামিন আসতে শুরু করেছে। বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ইতালি ও স্পেনে কিটামিন পাচার করছে কারবারিরা।

‘ম্যাজিক মাশরুম’ বা সাইলোসাইবিন মাশরুম নামে মাদকের প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় এ দেশে ২০২১ সালের ৭ জুলাই। ২০২২ সালের আগস্টের শুরুর দিকে নতুন মাদক হিসেবে কুশের নাম জানা যায়। এটি সিনথেটিক গাঁজা। বাংলাদেশের প্রচলিত গাঁজা থেকে অন্তত ১০০ গুণ শক্তিশালী। আমেরিকা থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে আসে এই কুশ।

ব্যথানাশক ট্যাবলেট মাদক
দেশে তৈরি ট্যাপেন্টাডল ও ট্রামাডল ব্যথানাশক ওষুধ। দেশে বৈধভাবেই তৈরি হতো এ ট্যাবলেট। তবে এটি মাদক হিসেবে ব্যবহার শুরু হওয়ায় সেটি নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর মাদক কারবারিরা ভারত থেকে সীমান্তপথে ট্যাপেন্টাডল ও ট্রামাডল নিয়ে আসছে। ট্রামাডল গত আগস্টে এবং ট্যাপেন্টাডল ২০১৯ সালে ডিএনসির হাতে প্রথম ধরা পড়ে।

সুফলের কোটা শূন্য
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মাদক চোরাচালান ও অপব্যবহার প্রতিরোধে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় উভয় দেশের নোডাল এজেন্সির মহাপরিচালক পর্যায়ে এ পর্যন্ত সাতটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য বিনিময় ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ১৯৯৪ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়মূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ পঞ্চম সভাটি ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনলাইনে হয়। পার্শ্ববর্তী দুই দেশের সঙ্গে মাদক বন্ধে এসব আলোচনায় তেমন সুফল আসেনি। ফলে এখনও আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদক।

যা বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ সমকালকে বলেন, দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে ইয়াবা ও অন্যান্য সিনথেটিক উত্তেজক মাদক। কারণ, কম দামে পাওয়া যায়। বহন ও লুকানো সহজ। দ্রুত আসক্তি তৈরি করে। শহর ও মফস্বল– দুই জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়েছে এই মাদক।

তিনি আরও বলেন, গত আট বছরে শনাক্ত ১২টি নতুন মাদকের অধিকাংশই সিনথেটিক। মানুষের নতুন মাদকে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ উল্লেখ করে ডিএনসির মহাপরিচালক বলেন, পুরোনো মাদক নিয়ন্ত্রণে এলে সরবরাহ কমে যায়। তখন নতুন বিকল্প তৈরি হয়। ব্যবহারকারীরা সচেতনভাবে নতুন মাদক বেছে নেয় না। সরবরাহকারীরা বাজার ধরে রাখতে নতুন মাদক আনে। আগামী ৫-১০ বছরে দেশে নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক ড্রাগ ও অনলাইনভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকি বলে মনে করেন তিনি।

হাসান মারুফ বলেন, ডিএনসিতে সীমিত জনবল। এই জনবল দিয়েই মাদক নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজারদারি জোরদার করা হয়েছে। বার ও অন্যান্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। ল্যাব সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তঃসংস্থার সমন্বয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’-এর কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর মাদক নেটওয়ার্কের গতির তুলনায় সক্ষমতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ, র‍্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থ-সম্পদ জব্দ করার মতো ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাই মাদক সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর চাহিদা কমানো অপরিহার্য।
‘সমকাল থেকে সংগৃহীত-

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।