রাজধানীর ধানমন্ডিতে বহুল আলোচিত জোড়া খুন মামলায় গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আফরোজা বেগমের বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতসূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর বিচারক এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত ও নৃশংস।
ঘটনার পটভূমি
২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডির ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) সড়কের ‘লোবেলিয়া হাউস’ ভবনের পঞ্চম তলা থেকে আফরোজা বেগম (৬৫) ও তাঁর গৃহকর্মী দিতির (১৮) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনাটি রাজধানীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
নিহত আফরোজা বেগম ছিলেন টিমটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্রিয়েটিভ গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করে। রায়ের অগ্রগতি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
মামলার রায়ের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য ছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। অবশেষে মঙ্গলবার আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান জানান, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ, ফরেনসিক প্রতিবেদন ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আদালত সুরভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত বলে মনে করেছেন। অন্যদিকে বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে তা উচ্চ আদালতে অনুমোদনের জন্য যাবে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আপিল করার সুযোগ পাবেন।
সাত বছর পর বহুল আলোচিত এই জোড়া খুন মামলার রায় ঘোষণা হওয়ায় ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশ হলে হত্যার পেছনের বিস্তারিত কারণ ও পরিকল্পনার বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
