ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের রাজনীতিতে যে তীব্র মেরুকরণ তৈরি হয়েছিল, তারই এক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এখন আলোচনায় গজারিয়ার তরুণ ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন মোল্লা। ধানের শীষের প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন-এর পক্ষে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মুখে পড়েছেন তিনি—এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গজারিয়া উপজেলা রাজনীতিতে নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনী মেরুকরণ ও স্থানীয় ক্ষমতার লড়াই-
স্থানীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের পক্ষে মাঠে নামা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে বিএনপির একটি অংশ ও প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়ায় মাঠের সমীকরণ জটিল হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে মহিউদ্দিন মোল্লার সরব প্রচারণা এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ধানের শীষের পক্ষে জনমত ঘুরিয়ে দেয় বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলাফলও সে ইঙ্গিত দেয়—গজারিয়া থেকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যান বিএনপির প্রার্থী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
. স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজনের মধ্যেও নতুন নেতৃত্ব উঠে এলে পুরনো শক্তিগুলোর মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক
. নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মঞ্চ’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অপপ্রচার: রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন কৌশল?
নির্বাচনের পরপরই “গজারিয়া প্রতিদিন” নামে কথিত একটি ফেইক আইডি থেকে মহিউদ্দিন মোল্লাকে ঘিরে ধারাবাহিক পোস্ট ছড়ানো শুরু হয়। কখনো তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে ট্যাগ করা, কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ—এগুলোকে স্থানীয়রা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে,
“স্থানীয় রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন প্রভাব বিস্তারের শক্তিশালী হাতিয়ার। সম্ভাব্য জনপ্রিয় প্রার্থী বা সংগঠককে ঘিরে অপপ্রচার চালানো অনেক সময় ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণ প্রভাবিত করার কৌশল হয়ে দাঁড়ায়।
সামনে ইউনিয়ন নির্বাচন: কেন আলোচনায় মহিউদ্দিন?
গজারিয়ার রাজনীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। স্থানীয় পর্যায়ে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহিউদ্দিন মোল্লার নাম ঘুরছে বলে জানা গেছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমিকা তাকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।
এ অবস্থায়, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার উত্থান, স্থানীয় নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস, দলীয় ভেতরের প্রতিযোগিতা —এই তিনটি কারণ অপপ্রচারের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রতিবাদ, প্রশাসনের ভূমিকা ও রাজনৈতিক বার্তা-
ফেইক আইডির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত পরিচালনাকারীকে শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নবনির্বাচিত এমপি কামরুজ্জামান রতনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও প্রত্যাশা করছেন অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা গজারিয়ার রাজনীতিতে তিনটি বার্তা দিচ্ছে—
🔹 নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের উত্থান শুরু হয়েছে
🔹 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে
🔹 স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য মহিউদ্দিন মোল্লাকে ঘিরে অপপ্রচার ইস্যু কেবল একজন তরুণ উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত সংকট নয়; বরং গজারিয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনশীল ক্ষমতার সমীকরণ, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং ডিজিটাল রাজনীতির প্রভাবের একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
